অক্টোবরের শেষে ইসরাইলে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছে ইরান

প্রকাশ:

ইরানের অর্থনীতির ওপর মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের নতুন কোনো পদক্ষেপ ঘোষণার আগেই তেহরানের জন্য পরিস্থিতি ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপে তেহরানের বিভিন্ন কৌশলের ব্যর্থতা স্পষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহণ স্বাভাবিক হওয়ায় তেহরানের প্রণালি বন্ধের কৌশলটি ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে সপ্তাহে প্রায় ২০০টি তেলবাহী জাহাজ নিরাপদে যাতায়াত করছে, যা গত দুই সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ৪০০ শতাংশ বেশি।

ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোও এখন তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত গত সপ্তাহ থেকে ইরানের সঙ্গে সব ধরনের আর্থিক ও বাণিজ্যিক লেনদেন পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। কয়েক দশক ধরে দুবাই ইরানের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলার প্রধান কেন্দ্র এবং আমদানির এক-তৃতীয়াংশের উৎস হিসেবে পরিচিত ছিল। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ইরানে মূল্যস্ফীতি ৯০ শতাংশ ছাড়িয়েছে, যার ফলে নিয়মিত সেনাবাহিনী ও রেভল্যুশনারি গার্ডের বেতন পরিশোধেও সরকার হিমশিম খাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে ইরানের নেতারা পুরোনো ‘ভালো পুলিশ, খারাপ পুলিশ’ খেলা শুরু করেছেন। একদিকে তারা আলোচনার প্রস্তাব দিচ্ছে, অন্যদিকে হুমকি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন এই প্রস্তাব গ্রহণ করলে ইরান একের পর এক ছাড় আদায়ের চেষ্টা করবে। ইরানের মূল লক্ষ্য হলো ট্রাম্পের সমালোচকদের বয়ানকে সমর্থন দেওয়া, যাতে তারা দাবি করতে পারে যে ইরানে মধ্যপন্থিরা শান্তির জন্য উদগ্রীব ছিল কিন্তু মার্কিন-ইসরাইল হামলার কারণে তারা ক্ষমতা হারিয়েছে।

দ্য পোস্টের মার্ক ডুবোউইৎসের সতর্কতা অনুযায়ী, ইরান শেষবারের মতো একটি বড় ধরনের চাল চালতে পারে। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ঠিক আগে, অক্টোবর মাসের শেষ দিকে তারা ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং সাইবার সক্ষমতা ব্যবহার করে বড় ধরনের হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের লক্ষ্য হলো ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ইসরাইলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বাড়িয়ে পেন্টাগনের বাজেট আটকে দেওয়া। ট্রাম্প প্রশাসনের উচিত মার্কিন জনগণকে এই পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক থাকা এবং কোনোভাবেই পিছিয়ে না আসা।

শেয়ার করুন