ভারতের বিহার রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ফারাক্কা ব্যারাজের সব গেট খুলে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিহারে গঙ্গার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই পদক্ষেপ জরুরি বলে দাবি করেছেন তিনি।
ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই-এর তথ্য অনুযায়ী, রোববার (২৩ আগস্ট) দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে এ নিয়ে টেলিফোনে আলোচনা হয়। সম্রাট চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিহারের বন্যা পরিস্থিতি এবং গঙ্গার ক্রমবর্ধমান পানির স্তর বিবেচনা করে তিনি শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা বলেছেন। ফারাক্কার সব গেট খুলে দিলে গঙ্গার পানির প্রবাহ বাড়বে এবং বিহারের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সম্রাট চৌধুরী আরও জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। বিহারের নিরাপত্তা বর্তমানে তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে, এই পরিস্থিতি নিয়ে বিহারের জনতা দল-ইউনাইটেডের (জেডিইউ) সংসদ সদস্য সঞ্জয় ঝা ১৯৯৬ সালের ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেন, ১৯৯৬ সালের ওই চুক্তির সময় বিহারের স্বার্থ উপেক্ষা করা হয়েছিল। আগামী ডিসেম্বরে চুক্তির ৩০ বছর পূর্ণ হতে চলায়, বিহারের স্বার্থ বিবেচনা না করে চুক্তিটি নবায়ন না করার জন্য তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে, যার মধ্যে ১৯৯৬ সালের চুক্তির মাধ্যমে ফারাক্কা ব্যারাজে শুষ্ক মৌসুমে পানি বণ্টন নির্ধারিত হয়। এর আগে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনা হলেও কোনো সমাধান আসেনি। ২০১১ সালে তিস্তার পানির ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ ভারত এবং ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ বাংলাদেশকে দেয়ার যে প্রস্তাব ছিল, তা পশ্চিমবঙ্গের বিরোধিতার কারণে বাস্তবায়িত হতে পারেনি।





