এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সভাকক্ষে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশন ও সংস্থার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা অংশ নেন।
সভায় প্রতিমন্ত্রী ফেডারেশনগুলোর কার্যক্রমে স্বজনপ্রীতি ও হটকারী সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, প্রস্তুতির শুরু থেকে কাজ করা কোচ মশিউর রহমান বিপ্লবকে সম্প্রতি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা এমন স্বজনপ্রীতিরই প্রতিফলন। তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে বলেন, স্বজনপ্রীতি পরিহার করে সম্পূর্ণ যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে সেরা পারফরমারদের দলে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং খেলোয়াড়দের নিবিড় প্রশিক্ষণের জন্য স্থায়ী কোচ নিয়োগ দিতে হবে।
দল গঠন ও বিদেশ সফরের বিষয়ে অনিয়ম নিয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাধারণ সম্পাদকদের শেষ মুহূর্তে কোচ সেজে বিদেশ সফরের প্রবণতা অশোভনীয়। তিনি শুটিং ফেডারেশনের এক কর্মকর্তার পদ পরিবর্তনের উদাহরণ দিয়ে বলেন, সারা বছর যিনি কঠোরভাবে খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাকেই কোচের দায়িত্ব দিতে হবে। এছাড়া অংশগ্রহণকারী দল, অফিসিয়ালদের সংখ্যা এবং ভ্রমণের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করার জন্যও সব ফেডারেশনকে নির্দেশ দেন তিনি।
ক্রীড়াঙ্গনের সামগ্রিক উন্নয়নে সরকার সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলে আশ্বস্ত করেন প্রতিমন্ত্রী। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তিনি স্টেডিয়ামগুলোর পরিবেশ উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। সম্প্রতি ঢাকা ও কমলাপুর স্টেডিয়াম পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পরও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি, যা ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের জন্য দুঃখজনক। তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, অফিসে বসে না থেকে প্রতিটি স্টেডিয়াম পরিচ্ছন্ন ও খেলাধুলার উপযোগী রাখা তাদের নৈতিক দায়িত্ব।





