ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলীয় শিল্পনগরী ক্রিভি রিহের একটি জনাকীর্ণ শপিং সেন্টারে রাশিয়ার ভয়াবহ ড্রোন হামলায় অন্তত ১৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় ২৩ শিশুসহ অন্তত ১৩০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত এই শহরটি যুদ্ধক্ষেত্রের সম্মুখসীমা থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং যুদ্ধের শুরু থেকেই এটি বারবার রুশ হামলার শিকার হয়েছে।
হামলার ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে এবং উদ্ধারকর্মীরা আহতদের উদ্ধারে প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের সামরিক প্রশাসনের প্রধান ওলেক্সান্ডার গানজা জানিয়েছেন, শুরুতে নিহতের সংখ্যা ১৫ জন জানানো হলেও পরে তা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলাকে সাধারণ শপিং সেন্টারের ওপর চালানো ‘নির্লজ্জ ও ঘৃণ্য’ কর্মকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি জানান, প্রথম ড্রোন হামলার প্রায় আধা ঘণ্টা পর ভবনের ছাদে দ্বিতীয় আরেকটি ড্রোন আঘাত হানে, যা মূলত উদ্ধারকর্মীদের লক্ষ্য করে চালানো একটি ‘পুনরায় হামলা’ ছিল। এছাড়া একই দিনে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় মাইকোলাইভ অঞ্চলে আরেকটি হামলায় তিন শিশুসহ আরও চারজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান ভিহিভস্কি।
ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলোর পক্ষ থেকে এই হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কায়া কালাস এই ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাস’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, আগামী মাসে আয়ারল্যান্ডে ইউরোপীয় মন্ত্রীরা বৈঠকে বসলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের পর থেকে সবচেয়ে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার তালিকা প্রস্তাব করা হবে। কালাসের মতে, এই হামলা মস্কোর যুদ্ধের চরম নৃশংসতা প্রকাশ করে এবং রাশিয়ার উদ্দেশ্য হলো ইউক্রেনের শহরগুলোকে বসবাসের অনুপযোগী করে তোলা।
এদিকে ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কিয়েভে মিত্র দেশগুলোর একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’ নামের এই বৈঠকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস যৌথভাবে সভাপতিত্ব করবেন। ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি এ বৈঠকে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রধান আন্তোনিও কোস্তাসহ প্রায় ১০ জন নেতা অংশ নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। জেলেনস্কি তার মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আগ্রাসীর বিরুদ্ধে প্রকৃত চাপ সৃষ্টি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা ছাড়া শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। শুক্রবার জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে ফোনালাপেও জেলেনস্কি বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের বিষয়টি তুলে ধরেন। অতিরিক্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ইউক্রেনীয় বাহিনী বর্তমানে যে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে, তা মোকাবিলায় মিত্রদের কাছে অতিরিক্ত সহায়তা চেয়ে আসছে কিয়েভ।





