আটলান্টা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের হাইভোল্টেজ ম্যাচে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ২-০ গোলে পিছিয়ে দিয়ে স্বপ্নের মতো এক প্রথমার্ধ শেষ করলো মিশর। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে কোনো ম্যাচ না জেতা মিশরের এই পারফরম্যান্স বিশ্ব ফুটবলে বড় অঘটনের আভাস দিচ্ছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই কৌশলী মিশর প্রথম গোলটি পায় ইব্রাহিমের কল্যাণে। ডান প্রান্তে লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে চাপে ফেলে হ্যানি একটি কর্নার আদায় করেন। সেই কর্নার থেকে আতিয়ার বাড়ানো ক্রস থেকে নিঃশব্দে বক্সে ঢুকে চমৎকার হেডে বল জালে জড়ান ইব্রাহিম। বলটি পোস্টের ডান দিকের উপরের কোণ দিয়ে জালে ঢোকার সময় এমিলিয়ানো মার্টিনেজ কেবল দাঁড়িয়েই ছিলেন। এরপর জিকোর গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে মিশর। আর্জেন্টিনার একটি কর্নার থেকে বল কেড়ে নিয়ে মোহাম্মদ সালাহ পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন। তিনি ক্রিস্টিয়ান রোমেরোকে কাটিয়ে ডান প্রান্তে থাকা হাসানকে পাস দেন, যিনি নাহুয়েল মলিনাকে পরাস্ত করে বক্সে কাট-ব্যাক করেন। সেখান থেকে বুলেট গতির শটে গোল করেন জিকো।
তবে মিশরের আরও একটি গোল ভিএআরের হস্তক্ষেপে বাতিল হয়। পাল্টা আক্রমণে মিশর গোল পেলেও, তার ঠিক আগের মুহূর্তে আতিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে জার্সি টেনে ফাউল করেছিলেন। ভিএআর দেখে রেফারি গোলটি বাতিল করে আর্জেন্টিনার পক্ষে ফ্রি-কিকের সিদ্ধান্ত দেন।
আর্জেন্টিনা সমতায় ফেরার একাধিক সুযোগ পেলেও মিশরীয় গোলকিপার মোস্তফা শোবেরের দেয়াল ভাঙতে পারেনি। প্রথমার্ধের শেষ দিকে তাগলিয়াফিকোর পাস থেকে হুলিয়ান আলভারেজের জোরালো সাইডফুট শট শোবের শরীর ভাসিয়ে এক হাতে পোস্টের বাইরে ঠেলে দেন। এমনকি লিওনেল মেসির নেয়া একটি পেনাল্টিও শোবের চমৎকারভাবে আটকে দেন, যেখানে মেসির শটে পর্যাপ্ত গতি ছিল না। এছাড়াও রদ্রিগো ডি পলের ক্রস থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড এবং এনজো ফার্নান্দেজের ফিরতি শট মিশরের রক্ষণভাগ রুখে দেয়। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত ৫ মিনিটেও মিশর তাদের রক্ষণভাগের শৃঙ্খলা অটুট রাখে, ফলে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের এখন দ্বিতীয়ার্ধে বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ নিতে হবে।





