চট্টগ্রামে জামিনে মুক্ত হচ্ছেন আওয়ামী লীগের সহস্রাধিক নেতাকর্মী

প্রকাশ:

জুলাই আন্দোলনের সময় হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধের মামলায় গ্রেফতার হওয়া চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। গত ৫ আগস্টের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে দলটির ১ হাজার ৪৫৫ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সোমবার পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে ১ হাজার ১০০ জনই জামিনে কারাগার থেকে বেরিয়ে এসেছেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্টের পর ১৬টি থানার মধ্যে ৮টিতে জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় মোট ৬৪টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি হত্যা মামলা রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ১৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে কোতোয়ালি থানায়। এসব মামলায় এজাহারনামীয় আসামি ৩ হাজার ১৪৭ জন এবং অজ্ঞাত আসামি ৫ হাজার ৯১১ জন। এ পর্যন্ত মোট ৬টি মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে কোতোয়ালি থানায় ১টি, সদরঘাট থানায় ২টি, চান্দগাঁও থানায় ১টি (হত্যা মামলা) এবং খুলশী থানায় ২টি মামলা অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া খুলশী থানার ১টি মামলায় ঘটনার সত্যতা না পাওয়ায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।

কারামুক্ত নেতাদের তালিকায় রয়েছেন বায়েজিদ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল নবী লেদু, অর্থ সম্পাদক রফিক উদ্দিন কালু, চকবাজার থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনসারুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক কায়সার হামিদ, বাকলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সদস্য মোহাম্মদ আফসার, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম, ১৬ নম্বর চকবাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহেদুল আজম শাকিল, ১৭ নম্বর ওয়ার্ড নেতা আবু সায়েদ মিন্টু, চকবাজার কাপাশগোলা ইউনিট সভাপতি হাজী সেলিম, যুবলীগ নেতা হাসানুল ইসলাম, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আব্দুল হাকিম ও খোরশেদ আলম বাসেত, চান্দগাঁও থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাইফুদ্দিন এবং মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি জয়নাল উদ্দিন জাহেদ প্রমুখ।

এসব নেতাকর্মীর মুক্তি নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, অনেকেই থানা পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষকে ‘ম্যানেজ’ করে জেল থেকে ছাড়া পাচ্ছেন। এছাড়া তদন্তাধীন ৫৭টি মামলায় আসামি অন্তর্ভুক্ত বা বাদ দেওয়া নিয়ে ‘গ্রেফতার বাণিজ্য’ চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। অনেক আসামি জামিন পাওয়ার পর এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছেন, আবার অনেকে গোপনে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। সাবেক কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম জানান, তার বিরুদ্ধে ৯টি মামলা থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাদীর সঙ্গে সমঝোতা করে তিনি মুক্তি পেয়েছেন। যুব মহিলা লীগ নেত্রী সোনিয়া আজাদ বিষয়টি নিয়ে বলেন, ‘এখন সবাই জানে, কে কীভাবে বের হচ্ছেন। আমার স্বামীর বিষয়টা হ্যান্ডল করেছি বলে আমি জানি।’

এ বিষয়ে সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ জানান, আদালতের নির্দেশেই নেতাকর্মীরা কারামুক্ত হচ্ছেন এবং জামিনে থাকা ব্যক্তিদের ওপর পুলিশের নজরদারি রয়েছে। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সৈয়দ শাহ্ শরীফ বলেন, জামিননামা পাওয়ার পর ডিএসবি ও সিটিএসবিকে অবহিত করা হয়। অন্য কোনো মামলা না থাকলে এবং পুলিশের ক্লিয়ারেন্স পাওয়া গেলে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়, এখানে কারাগারের নিজস্ব কোনো ভূমিকা নেই।

শেয়ার করুন