ডালাসে স্পেনের কাছে হেরে রোনালদোর বর্ণাঢ্য বিশ্বকাপ অধ্যায়ের ইতি

প্রকাশ:

ডালাসের মাঠে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে পর্তুগাল। এই হারের মাধ্যমেই ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম কিংবদন্তি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দুই দশকের দীর্ঘ বিশ্বকাপ অধ্যায়ের যবনিকা ঘটল। ম্যাচের যোগ করা সময়ে মিকেল মেরিনোর একমাত্র গোলে স্পেনের জয় নিশ্চিত হয়, যা রোনালদোর জন্য বিশ্বকাপের দরজা চিরতরে বন্ধ করে দেয়।

ম্যাচটি শুরু হওয়ার আগেই রোনালদো জানিয়েছিলেন যে, এটিই তার শেষ বিশ্বকাপ। তাই স্পেনের বিপক্ষে শেষ ষোলোর লড়াইটি কেবল একটি নকআউট ম্যাচ ছিল না, ছিল তার দীর্ঘ ২০ বছরের পথচলার শেষ অধ্যায়। ৯০ মিনিট মাঠে লড়লেও ভাগ্য তার পক্ষে ছিল না। প্রথমার্ধে উনাই সিমনের বিপক্ষে একটি শট নেয়া ছাড়া খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেননি তিনি। ম্যাচ শেষে তার চোখে ছিল নীরবতা এবং মুখে ক্লান্তির ছাপ, যা বুঝিয়ে দিচ্ছিল এই মঞ্চে তার ফেরার আর কোনো সুযোগ নেই।

২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপে এক সম্ভাবনাময় তরুণ হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিলেন রোনালদো। এরপর ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন তিনি, যা বিশ্ব ফুটবলে বিরল এক অর্জন। প্রতিটি বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য কীর্তি থাকলেও বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের স্বপ্ন তার অপূর্ণই থেকে গেল। ২০০৬ সালে সেমিফাইনালে ওঠাই ছিল তার ক্যারিয়ারের সেরা সাফল্য। এরপর ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ কিংবা ২০২৬—কোনো আসরেই তিনি আর ট্রফির অত কাছে পৌঁছাতে পারেননি।

বিদায়বেলায় রোনালদো কোনো আক্ষেপ না রেখে বলেন, ‘আমি পরিষ্কার বিবেক নিয়েই বিদায় নিচ্ছি। দেশের জন্য যা করার, তার সবটাই করেছি।’ তিনি ২০১৬ সালে পর্তুগালের হয়ে ইউরো জয়ের স্মৃতিকে বিশ্বকাপ জয়ের মতোই মূল্যবান বলে উল্লেখ করেন।

পরিসংখ্যানের বিচারে রোনালদো আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা ফুটবলারদের একজন। তবে তার মহত্ত্ব কেবল এই সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। অবিশ্বাস্য শৃঙ্খলা, পরিশ্রম এবং হার না মানা মানসিকতা দিয়ে তিনি কোটি মানুষের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন। বিশ্বকাপ ট্রফি না জিতলেও, প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অসম্ভবকে সম্ভব করার স্বপ্ন দেখানোই তার আসল উত্তরাধিকার হিসেবে রয়ে যাবে।

শেয়ার করুন