সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে ঢাকার সাভারের তারাপুর ঈদগাহ মাঠে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আয়োজিত একটি সমাবেশ চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরিকল্পিত এই হামলায় দুই সংবাদকর্মীসহ মোট ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন জুলাই শহীদ শ্রাবণ গাজীর বাবা মান্নান গাজী, শাহীন খন্দকার, জসীম উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, ডিবিসি নিউজের ক্যামেরা পারসন মো. মজনু এবং এনপিবি নিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মো. সাঈদুল ইসলাম। তাদের সকলকে গুরুতর অবস্থায় এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিস্ফোরণের সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব ও সংসদ-সদস্য আখতার হোসেন এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সার্জিস আলম। ঘটনার সময় ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ বক্তব্য দিচ্ছিলেন। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইয়াসির আরাফাত অভিযোগ করেন, সমাবেশস্থলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পরপরই বেশ কয়েকটি হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মঞ্চের সামনে সাংবাদিকদের অবস্থানের ঠিক পেছনে সাধারণ মানুষের বসার স্থানে এই বিস্ফোরণ ঘটলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর বিদ্যুৎ ফিরে এলে নাহিদ ইসলামসহ নেতাকর্মীরা বোমা হামলার বিচারের দাবিতে মিছিল করেন এবং সাভার মডেল থানার সামনে জড়ো হন। পরে দলের নেতারা হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন। সমাবেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানান। সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ জানিয়েছেন, অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীদের আসামি করে থানায় একটি বিস্ফোরক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
এনসিপি নেতাকর্মীরা জানান, গাজীপুরের কালীগঞ্জে কর্মসূচি শেষ করে নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা রাত ৯টার দিকে সাভারে পৌঁছান।





