গত তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশে গ্যাসের সংকট চলছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকেলে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সামিটের টার্মিনাল থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মজুত ফুরিয়ে যাওয়া রোধ করতে গত সোমবার সন্ধ্যা থেকেই সামিটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ কমানো শুরু হয়। মঙ্গলবার এটি ২০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে এবং বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত ১০ কোটি ঘনফুট করে সরবরাহ করা হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় এই সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়, যার মধ্যে এলএনজি থেকে আসে ১০৫ কোটি ঘনফুট। বর্তমানে এলএনজি থেকে সরবরাহ ৩০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে এসেছে। ফলে দেশের মোট গ্যাস সরবরাহ ১৯৩ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে, যা গতকালও ছিল ২০৩ কোটি ঘনফুট। এই পরিস্থিতিতে দেশের ছয়টি গ্যাস বিতরণ সংস্থা হিমশিম খাচ্ছে। বৃহত্তম গ্যাস বিতরণ সংস্থা তিতাসের দিনে চাহিদা ১৯০ থেকে ২০০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে তারা ১৫৫ কোটি ঘনফুট পেলেও এলএনজি সরবরাহ কমার পর তা ১২০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। গত দুই দিন তারা ১০০ কোটি ঘনফুট করে পাচ্ছিল এবং বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে তা আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে।
কক্সবাজারের মহেশখালীতে এলএনজি সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল আছে। এর মধ্যে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট এবং দেশীয় কোম্পানি সামিটের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট। গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্যাসের সরবরাহ কমে সংকট তৈরি হয়। পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার আছে, যার প্রতিটি ৩০ কোটি ঘনফুট সক্ষমতার। এর মধ্যে একটি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অক্ষত বয়লারটি থেকে ৬ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি চালু করার আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ৭২ ঘণ্টা পুরোপুরি সরবরাহ বন্ধ রাখতে হবে, তবে এর সময় এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে ঢাকার বাইরে তীব্র লোডশেডিং করা হচ্ছে। পরিস্থিতির চাপে এখন ঢাকায়ও লোডশেডিং শুরু হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, গ্রামের মানুষের ভোগান্তি কিছুটা কমাতে ঢাকাতে সহনীয় লোডশেডিং করা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে শনিবার থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, কাল রাতের মধ্যে সমুদ্র স্বাভাবিক হতে পারে। এটি ঠিক থাকলে শনিবার দুপুরের পর থেকে সামিটের টার্মিনাল থেকে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হতে পারে।
এদিকে, বুধবার রাত ১১টা থেকে ঢাকায় লোডশেডিং শুরু হয়েছে। ডিপিডিসির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাত ১১টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ২৫০ মেগাওয়াট, সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২০০ মেগাওয়াট এবং দুপুর ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ২০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হবে। বিকেল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কোনো লোডশেডিং থাকবে না। জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকার বিপণিবিতান ও দোকানপাট বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা এবং সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের আলোকিত বিলবোর্ড ও আলোকসজ্জা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে, যা বুধবার থেকে কার্যকর হয়েছে।





