মাঠ প্রশাসনে নিয়োগ নিয়ে অস্থিরতা, কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

প্রকাশ:

ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬-এর কর্মী ও সুপারভাইজার নিয়োগকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে বিক্ষোভ, ঘেরাও এবং ভাঙচুরের ঘটনায় মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক বিধিবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তারা নিয়মিত রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এই পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে মাঠ পর্যায়ে সরকারি দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে নিয়োগের ফলাফল নিয়ে বুধবার ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ ও ভাঙচুর চালান। সাবেক উপজেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক সোহেল রানার নেতৃত্বে বিক্ষোভকারীরা ইউএনওর কক্ষের দরজায় লাথি মারেন এবং অফিসের চেয়ার ও ফুলের টব ভাঙচুর করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় না রেখে রাজনৈতিক বিবেচনায় আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে গাইবান্ধার ফুলছড়িতে। সোমবার ফল প্রকাশের পর অনিয়মের অভিযোগে মঙ্গলবার উপজেলা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ইউএনও কার্যালয়ের জানালা, চেয়ার ও ফুলের টব ভাঙচুর করেন। ফুলছড়ি উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জয়নাল মিয়া জানান, কাজের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তাকে চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়নি। সুন্দরগঞ্জেও একই অভিযোগে ইউএনও এবং সমাজসেবা কর্মকর্তার কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে বদলি দাবি করা হয়েছে। এছাড়া পলাশবাড়ীতে সোমবার রাতে ছাত্রদলের নেতৃত্বে সড়ক অবরোধ এবং ইউএনও আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লার অপসারণ দাবি করা হয়। সাদুল্লাপুরেও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ইউএনও কার্যালয়ের ফটকে তালা ঝুলিয়েছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে সোমবার নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে ইউএনও প্রিয়াংকা দাস ও সমাজসেবা কর্মকর্তা সোহেল রানার অপসারণ চেয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়, যার ফলে দুই ঘণ্টা দাফতরিক কাজ বন্ধ থাকে। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নিয়োগ না পাওয়ায় ইউএনও ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো: কায়েসুর রহমানকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করার হুমকির অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি পদপ্রার্থী কামরুল হাসান নিসানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তিনি পরে ক্ষমা চেয়েছেন।

ময়মনসিংহের গৌরীপুরেও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তবে নিয়োগ কমিটির সভাপতি আফিয়া আমীন পাপ্পা সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাক্রম অনুযায়ী স্বচ্ছভাবে নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ইউএনও ফারজানা আখতারের বিরুদ্ধে নিয়োগে অনিয়ম ও ‘স্বৈরাচার পুনর্বাসনে’র অভিযোগ তুলে ‘কুমারখালী পতিত স্বৈরাচার বিরোধী নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে উপজেলা ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা বিক্ষোভ ও ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে। আন্দোলনকারীরা ইউএনওর কুশপুতুল দাহ করে এবং কার্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের ২৪ জন সদস্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়া যশোর ও মৌলভীবাজারেও নিয়োগ নিয়ে হট্টগোলের খবর পাওয়া গেছে। রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ৯ আগস্ট বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে। মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, আইনি কাঠামোর ভেতরে থেকে কাজ করার পরও রাজনৈতিক দলের মনপুত না হলে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে, যা সরকারি কাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শেয়ার করুন