রাজধানীর বাজারে ২০০ টাকার নিচে নেই মাছ-মুরগি, ডিম ১৬০

প্রকাশ:

রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে চরম সংকটে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা। দৈনন্দিন খাদ্যের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ, যার ফলে অনেকেই সংসারের খরচ মেটাতে কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছেন। ক্রেতাদের দাবি, বাজারের এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও কার্যকর তদারকি প্রয়োজন।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে গরুর মাংসের দাম ৮০০ টাকার কাছাকাছি স্থিতিশীল রয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় মুরগির দাম বেড়েছে। মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের মুরগি বিক্রেতা রাব্বি মিয়া জানান, তিনি ব্রয়লার মুরগি ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। এছাড়া হাইব্রিড মুরগি ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মুরগির পাশাপাশি মাছের বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। মোহাম্মদপুর টাউনহলের মাছ বিক্রেতা ইমদাদ হোসেনের মতে, চাষের মাছের দাম দিন দিন বাড়ার কারণে তাদের ক্রয়মূল্য বেড়ে গেছে, যার ফলে পুঁজিও বেশি লাগছে এবং খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। বর্তমানে জীবিত পাঙাশ ২৩০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে অন্যান্য মাছের দামের চিত্রও ঊর্ধ্বমুখী। মানভেদে চিংড়ির কেজি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, মাঝারি আকারের রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে। রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে ক্রেতাদের হাজার টাকার বেশি গুনতে হচ্ছে।

ডিমের বাজারেও অস্বস্তি কাটেনি। বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম কিনতে ক্রেতাদের ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। বাজারের এই পরিস্থিতিতে সাধারণ ক্রেতা রাকিব হোসেন বলেন, ব্রয়লার মুরগি, পাঙাশ ও তেলাপিয়া সাধারণ মানুষের ভরসা। এসবের দাম বাড়লে সরাসরি নিম্ন আয়ের মানুষের পকেটে টান পড়ে, কারণ তাদের পক্ষে দেশি বা সোনালি মুরগি কেনা সম্ভব হয় না।

শেয়ার করুন