নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে নগদ প্রণোদনা অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নির্ধারিত ৪৩টি রপ্তানি পণ্যের ক্ষেত্রে দশমিক ৩০ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত হারে এই প্রণোদনা কার্যকর থাকবে। আগের অর্থবছরের মতোই পণ্যভিত্তিক এই প্রণোদনার হার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা মূলত নীতিগত ধারাবাহিকতারই প্রতিফলন।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, রপ্তানি আয় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে প্রত্যাবাসন এবং বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা বিধি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এই প্রণোদনা সুবিধা পাওয়া যাবে। প্রণোদনা প্রদানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সব শর্ত, যোগ্যতার মানদণ্ড এবং কার্যপ্রণালি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অনুমোদিত ডিলার বা এডি ব্যাংকগুলোকে যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে আবেদন নিষ্পত্তি এবং প্রচলিত নির্দেশনা অনুযায়ী প্রণোদনা বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার দুই দফায় রপ্তানি প্রণোদনা কমিয়েছিল। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বিধি অনুযায়ী এলডিসি থেকে উত্তরণের পর রপ্তানি প্রণোদনা দেওয়া যায় না বলে তখন জানানো হয়েছিল। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর সহায়তা একবারে প্রত্যাহার করলে রপ্তানি খাত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বিধায় সরকার ধাপে ধাপে তা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে দিতে জাতিসংঘে আবেদন করেছে বর্তমান সরকার। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কারোপ, ভারতের বিধিনিষেধ এবং দেশে শিল্প খাতে অস্থিরতার কারণে অন্তর্বর্তী সরকার প্রণোদনা প্রত্যাহারের সময়সীমা পিছিয়ে দিয়েছিল, যা থেকে বর্তমান সরকার সরে এসেছে।
নগদ সহায়তার বড় সুবিধাভোগী তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাত। দেশি সুতা ব্যবহার করে নতুন বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৯ শতাংশ প্রণোদনা পাওয়া যাবে, যা আগে ছিল ৯ দশমিক ১ শতাংশ। চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে ১০ শতাংশ এবং ক্রাস্ট ও ফিনিশড লেদারে ৬ শতাংশ প্রণোদনা আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে। এছাড়া প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য ও বৈচিত্র্যময় পাটপণ্য রপ্তানিতে ১০ শতাংশ, পাটজাত পণ্যে ৫ শতাংশ ও পাট সুতায় ৩ শতাংশ সহায়তা বহাল রাখা হয়েছে।
অন্যান্য পণ্যের মধ্যে হালকা প্রকৌশল পণ্যে ১০ শতাংশ, ওষুধের কাঁচামালে ৫ শতাংশ, বাইসাইকেল রপ্তানিতে ৩ শতাংশ এবং আসবাব রপ্তানিতে ৮ শতাংশ প্রণোদনা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি হিমায়িত চিংড়ি, মোটরসাইকেল, ইলেকট্রনিকস, পেট বোতল ফ্লেক্স, জাহাজ, প্লাস্টিক পণ্য, হাতে তৈরি পণ্য, তৈরি পোশাক কারখানার ঝুট, গরু-মহিষের নাড়ি-ভুঁড়ি-শিং-রগ, কাঁকড়া, কুঁচিয়া এবং আগর ও আতর রপ্তানিতেও আগের হারে নগদ সহায়তা বহাল থাকবে।





