লক্ষ্মীপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গৌতম চন্দ্র মিত্রের বিরুদ্ধে একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের জাল সনদ সংক্রান্ত তদন্তে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। সদর উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল এই অভিযোগটি তুলেছেন। এর আগে গত ১ জুন তিনি এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন।
অভিযোগের সূত্র অনুযায়ী, সদর উপজেলার মুনছুর আহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে বিএড পরীক্ষার জাল সনদ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। কামাল ঢাকা নিউ রাজধানী প্রশিক্ষণ কলেজ থেকে ২০০১ সালের একটি বিএড সনদ দেখিয়ে ২০১৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি একই সনদ ব্যবহার করে ২০১৫ সালের ৩০ মে হাসন্দি বিজয়নগর নারী শিক্ষা নিকেতন এবং ২০১৯ সালের ২৪ জুন পৌর শহীদ স্মৃতি একাডেমিতে চাকরির আবেদন করেন। তবে গত ১০ ডিসেম্বর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সনদটি যাচাই করলে সেটির ফলাফল 'ফেল' হিসেবে চিহ্নিত হয়।
অভিযোগকারী ইব্রাহিম খলিল জানান, জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র মিত্রকে তদন্তের নির্দেশ দিলেও তিনি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেননি। ইব্রাহিম ওই বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর আগেই শিক্ষা কর্মকর্তা তদন্ত শেষ করে চলে আসেন, যা পক্ষপাতিত্বের ইঙ্গিত দেয়। এছাড়া, কামালের নিয়োগকালে ব্যবহৃত সনদের পরিবর্তে শিক্ষা কর্মকর্তা 'দি ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লা'র একটি সনদের ওপর ভিত্তি করে গত ২০ এপ্রিল প্রতিবেদন দাখিল করেন, যা কামালের অতীতে ব্যবহৃত সনদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তদন্তের বিষয়ে সাবেক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু তালেবের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ২০১৯ সালের ৪ আগস্ট তিনি কামালের বিএসএস ও বিএড সনদের সত্যায়িত করেন, যেখানে দুটি সনদের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও শিক্ষাবর্ষ একই ছিল। আর পরীক্ষার সঠিক শিক্ষাবর্ষ ২০০০-২০০১ সাল। জাল সনদে সত্যায়িত করার বিষয়ে বক্তব্য জানতে বৃহস্পতিবার বিকেলে সাবেক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু তালেবের মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ করেন।
অভিযুক্ত শিক্ষক মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, সনদের বিষয়ে তদন্ত শেষ হয়েছে এবং এ নিয়ে তার কোনো বক্তব্য নেই। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গৌতম চন্দ্র মিত্র দাবি করেছেন, তিনি প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন এবং কামালের কাছে মূল সনদ চেয়েছেন। তবে কামালের মূল নিয়োগের সনদের বিষয়ে কেন তদন্ত করা হয়নি, সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসানকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মেজবা উল আলম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই, তবে তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।
কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সনদটি যাছাই (১০ ডিসেম্বর ২০২৫) করলে জানা যায় সনদটির ফলাফল ফেল।এ ঘটনায় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গৌতম চন্দ্র মিত্রকে তদন্তের জন্য নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।
দুটি সনদেই রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার (১৩৭৬৫৫) ও শিক্ষাবর্ষের সাল (১৯৯৬-৯৭) এক।





