ফিলাডেলফিয়ার তীব্র গরমে লড়াইয়ের পর প্যারাগুয়ের কঠিন রক্ষণভাগ ভেঙে কোয়ার্টার-ফাইনালে পা রাখল দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। শেষ ষোলোর এই উত্তেজনাকর ম্যাচে ১-০ গোলের জয় পেয়েছে ফরাসিরা। জার্মানিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে অঘটন ঘটানো প্যারাগুয়ে এই ম্যাচেও রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলেছে। গোলরক্ষক অরল্যান্দো গিলের নেতৃত্বে তারা নিজেদের বক্সের সামনে শক্তিশালী দুর্গ গড়ে তুলেছিল, যা প্রথমার্ধে ফ্রান্সের আক্রমণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হয়।
ম্যাচের ৬৯ মিনিটে খেলার মোড় ঘুরে যায়। বাঁ প্রান্ত দিয়ে দুর্দান্ত দক্ষতায় একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে ঢোকার সময় দিয়েগো গোমেজের ট্যাকলে ফাউলের শিকার হন দেজিরে দুয়ে। ভিএআর দেখে রেফারি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নিলে স্পট কিক থেকে ঠান্ডা মাথায় গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এটি ছিল চলতি আসরে তার ষষ্ঠ গোল। পিছিয়ে পড়ার পর প্যারাগুয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও সফল হয়নি। উল্টো দিকে মিশেল ওলিসের থ্রু বল থেকে এমবাপ্পের জোরালো শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় দুইবার রুখে দেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্দো গিল।
পুরো ম্যাচে শারীরিক লড়াইয়ের ছাপ ছিল স্পষ্ট। এক পর্যায়ে এমবাপ্পে ও হুয়ান হোসে কাসেরেসের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও রেফারি ইলগিজ তানতাশেভ কাউকে কার্ড দেখাননি। এই ম্যাচ দিয়ে জাতীয় দলের হয়ে ১০৩তম ম্যাচ খেললেন এমবাপ্পে, যার মাধ্যমে তিনি ফরাসি ফুটবলারদের তালিকায় কোচ দিদিয়ে দেশমের সঙ্গে যৌথভাবে নবম স্থানে উঠে এলেন। উল্লেখ্য, ১৯৯৮ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে লোরঁ ব্লঁর গোল্ডেন গোলে প্যারাগুয়েকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল ফ্রান্স, সেই দলের অধিনায়ক ছিলেন বর্তমান কোচ দেশম। এর আগে সুইডেন, নরওয়ে, ইরাক ও সেনেগালের বিপক্ষে ১৩ গোল করলেও প্যারাগুয়ের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ধারায় কিছুটা ভাটা পড়েছিল ফ্রান্সের। কোয়ার্টার-ফাইনালে এখন তাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো।





