সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান

প্রকাশ:

ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের ছাত্র গণ-আন্দোলন এবং সর্বশেষ জুলাই চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে অগণিত শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে। এই আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় রাষ্ট্র ও সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো জনগণের আস্থা অর্জন করা এবং নৈতিক মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে একটি কল্যাণকামী রাষ্ট্র গড়ে তোলা। একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক, মাদকমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন দেশ গড়তে জনগণ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক কর্মী, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, অভিভাবক ও ধর্মীয় নেতাসহ সকল সচেতন নাগরিকের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আন্তরিক হতে হবে। কোনো জনপ্রতিনিধি দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে তাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং প্রয়োজনে স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছেড়ে দেয়ার রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। দেশ কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; সরকার, জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মচারীরা জনগণের সেবক। রাজনীতিতে যারা জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রত্যয় নিয়ে আসবেন, তাদের নিজেদের সততা ও নৈতিকতার চর্চা করতে হবে।

সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। কাবিখা, কাবিটা, টিআর, জিআর ও এডিবিসহ সব উন্নয়ন কর্মসূচি সততার সাথে বাস্তবায়ন করতে হবে। ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই অনুমোদিত নকশা, সিডিউল ও গুণগত মান বজায় রাখতে হবে। সরকারি অর্থে নির্মিত স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদরাসা, মন্দির, গির্জা, কবরস্থান, হাসপাতাল ও রাস্তাঘাটের মতো স্থাপনাগুলোতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা নয়ছয় বরদাস্ত করা হবে না। আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

মাদক, দুর্নীতি, অর্থপাচার ও ক্ষমতার অপব্যবহার রাষ্ট্রকে দুর্বল করে এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। তাই মাদক উৎপাদন, পাচার ও সেবনের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি ঘুষ, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ জনমত তৈরি করতে হবে। আগামী প্রজন্মকে সৎ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে ভূমিকা রাখতে হবে। তরুণদের অপরাধ থেকে দূরে রেখে সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে রাষ্ট্র ও সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পরিশেষে, অপরাধ ও আইন লঙ্ঘনের যেকোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন