চট্টগ্রামে ২ কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে হামলা, অধরা মূলহোতা ইমন

প্রকাশ:

চট্টগ্রাম নগরের চন্দনপুরা এলাকায় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘ডিজিটাল ডট নেট’ (ডিডিএন) কার্যালয়ে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও অর্থ লুটের ঘটনায় ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও র‌্যাব। তবে এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মূলহোতা চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডের অন্যতম নিয়ন্ত্রক শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।

মামলার বিবরণ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ জুলাই ডেভিড ইমন ডিডিএনের স্বত্বাধিকারীকে ফোন করে নিজের পরিচয় দিয়ে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৩ জুলাই দুপুরে চন্দনপুরার মরিয়ম হাইটস ভবনে অবস্থিত ডিডিএন কার্যালয়ে ৩০-৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল হামলা চালায়। হামলাকারীরা অফিসের কম্পিউটার ও ল্যাপটপসহ প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল ভাঙচুর করে। এ সময় তারা ড্রয়ার ও ব্যাগ থেকে কর্মচারীদের বেতন বাবদ রাখা ৩৫ লাখ ৪৭ হাজার টাকা, মোবাইল ও অন্যান্য সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।

এই ঘটনায় চকবাজার থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ ও র‌্যাব দুই দফায় অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। গত ১৪ জুলাই রাতে চকবাজার থানা ও ডিবি পুলিশ মো. ইউনুস, ইমরান হোসেন, আকবর হোসেন, মো. সুমন, মনির ওরফে কেহেরমান, গিয়াস উদ্দিন, নয়ন এবং মোহাম্মদ আবদুল নাহিদ ওরফে ফরহাদকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে গত ১৮ জুলাই রাতে র‌্যাব-৭-এর অভিযানে মাইকেল রোহেন মিয়া ওরফে মাইকেল, মো. তুহিন, আকবর হোসেন, মো. আব্দুল মুমিন, মো. মাসাদ মিয়া, মো. দিদার মিয়া, মো. সানজাত হাসান, সৈরত হোসেন এবং মো. সাইফুদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব-৭-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছে যে ডেভিড ইমনের নির্দেশেই এই সুপরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছিল। ইমনের অন্যতম সহযোগী সানি, মাইকেল ও রাজু রাউজান, বাকলিয়া, চকবাজার ও বহদ্দারহাট এলাকা থেকে এই সন্ত্রাসী দল ভাড়া করে। হামলার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে তারা একাধিক উপ-দলে বিভক্ত হয়ে এলাকায় অবস্থান নিয়েছিল।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে জোড়া খুন ও পতেঙ্গায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যাসহ অন্তত ৭টি মামলা রয়েছে। বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’-এর হয়ে চট্টগ্রামে আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা দুই ব্যক্তির মধ্যে ইমন অন্যতম। অপরজন হলেন মোহাম্মদ রায়হান, যার বিরুদ্ধে ৮টি মামলা রয়েছে। এই চক্রের অধীনে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এদিকে ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মূলহোতা গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের মালিক আদিল বিন মামুন। তিনি দ্রুত এই চাঁদাবাজ ও শীর্ষ সন্ত্রাসীকে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ইমনকে ধরতে তাদের বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে।

শেয়ার করুন