রাজশাহীতে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মিছিল

প্রকাশ:

রাজশাহীতে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে তদন্ত ও পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে রাস্তায় নেমেছে শিশুশিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় অভিভাবকসহ তারা বিভাগীয় ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। উপশহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দেওয়া ১২টি বিদ্যালয়ের ২৩৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পাওয়ায় এই অস্বাভাবিক ফলাফল নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাবকরা দাবি করেছেন, সাতটি ওয়ার্ডের কোটা অনুযায়ী অন্তত ২৮ জনের বৃত্তি পাওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী বৃত্তি পরীক্ষায় পাস করার জন্য একটি বিষয়ে ন্যূনতম ৪০ নম্বর পেতে হয়, কিন্তু সাতটি ওয়ার্ডে ৪০ জন শিক্ষার্থী প্রতি বিষয়ে ন্যূনতম ৪০ নম্বর করে পাবে না, এটা কেউ মানতে পারছেন না।

মানববন্ধনে অভিভাবক আজিবর রহমান সাত দফা দাবি উত্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা, পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে সংশোধিত ফল প্রকাশ, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করা, স্বচ্ছ ফল প্রকাশের ব্যবস্থা চালু করা এবং পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে সংশোধিত ফলাফল প্রকাশ। দাবি পূরণ না হলে তারা অনশন কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এর আগে ২০১৫ সালে রাজশাহীতে প্রাথমিকে ৪০ জন শিক্ষার্থীর বৃত্তি নিয়ে জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছিল।

উপশহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান জানান, ওই কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১২টি বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীরও বৃত্তি তালিকায় নাম না থাকাটা অত্যন্ত বিস্ময়কর। আবার নিয়ম অনুযায়ী সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ৮০ শতাংশ ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ২০ শতাংশ বৃত্তি পাওয়ার কথা, কিন্তু রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় বেসরকারি বিদ্যালয়ের ৬৩ জন শিক্ষার্থী মেধাবৃত্তি পেয়েছে, সেখানে সরকারি বিদ্যালয়ের পেয়েছে ৫৪ জন। অভিভাবকদের পক্ষ থেকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম আনোয়ার হোসেন বলেন, তাদের হাতে এখন কিছু করার নেই, কারণ খাতা অন্য জেলায় মূল্যায়ন হয় এবং ফলাফল অধিদপ্তর থেকে আসে। তবে অভিভাবকদের আবেদন অধিদপ্তরে পাঠানো হবে। তিনি আরও বলেন, ফল প্রস্তুতের সময় কোনো কারিগরি ত্রুটির কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে এবং কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।

শেয়ার করুন