শেখ হাসিনার রাজনীতিতে ফেরা ও সংবিধান সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক

প্রকাশ:

জুলাই আন্দোলনের পর নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে যে ঐক্যের সূচনা হয়েছিল, তাতে চিড় ধরার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক সংকট ও সংস্কারের প্রতিশ্রুতি পূরণে ধীরগতি এক ধরনের অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এই সুযোগে ফ্যাসিস্ট রাজনীতির পতনের পর সুবিধাভোগী মহল শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে আসার জন্য নতুন বয়ান তৈরি করছে। সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে বিভেদ বাড়তে থাকায় সংস্কার নিয়ে সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংস্কার সংক্রান্ত অর্ডিন্যান্সগুলোর আইনি ভিত্তি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সমাধান রাজপথে গড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে কমিটি গঠন এবং তাদের উপেক্ষা করার প্রবণতা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. দিলারা চৌধুরী প্রশ্ন তুলেছেন, দেশ কি ওয়ানপার্টি ডেমোক্র্যাসির দিকে যাচ্ছে? তিনি বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ, গুম-খুন কমিশন ও দুদক শক্তিশালী করার অর্ডিন্যান্সগুলো পাশ কাটানোর বিষয়েও কড়া সমালোচনা করেছেন।

ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়ে তার বিচার করা আদালতের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট সাংবাদিক সোহরাব হোসেন টিভি টকশোতে কর্নেল আবু তাহের, জুলফিকার আলী ভুট্টো ও মাওলানা আবুল কালাম আজাদের উদাহরণ টেনে বলেছেন, অতীতে অনেক ফাঁসির রায় পরে অবৈধ ঘোষিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের অসঙ্গতি তুলে ধরে তিনি কাদের মোল্লা ও মাওলানা সাঈদীর মামলার উদাহরণ দিয়ে ভবিষ্যতে আপিলের মাধ্যমে শাস্তির সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। হাসিনা নিজে পালিয়েছেন নাকি তাকে বিমানে করে পাঠানো হয়েছে, তা পর্যালোচনার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

একই টকশোতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম স্পষ্ট করেন যে, শেখ হাসিনা কোনো রাষ্ট্রীয় প্রটোকলে নয়, বরং ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে জীবন বাঁচাতে দেশ থেকে পালিয়েছেন। তাকে বিমানে করে দিল্লি পাঠানো ছিল মানবিক সাহায্য। বর্তমানে পাসপোর্ট বাতিল হওয়ায় তিনি ভারতে শরণার্থী হিসেবে আছেন। তাজুল ইসলামের মতে, জাতিসঙ্ঘের তদন্ত প্রতিবেদন, ভিডিও ফুটেজ, ফরেনসিক রিপোর্ট ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগকে তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও গণহত্যার জন্য একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে সোহরাব হোসেনের মতে, দেশ যখন বন্যায় বিপর্যস্ত, তখনও শেখ হাসিনার ফেরা নিয়ে আলোচনা মূলত আওয়ামী লীগকে প্রাসঙ্গিক রাখার একটি সফল কৌশল। তিনি মনে করেন, নিষিদ্ধ হলেও আওয়ামী লীগ একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে।

শেয়ার করুন