বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশির বুকে নতুন করে জেগে ওঠা চর বিজয় ক্রমশ উপকূলীয় জীববৈচিত্র্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অভয়াশ্রম হয়ে উঠছে। সম্প্রতি এই দ্বীপে দেখা মিলেছে অম্বর চুটকি বা ভেরডিটার ফ্লাইক্যাচার নামের এক দৃষ্টিনন্দন পাখির। গত রোববার চর বিজয়ের বালুচরে বৃষ্টিতে ভিজে দুর্বল হয়ে পড়া পাখিটিকে দেখতে পান স্থানীয় জেলে সাইদুল। পরে তিনি কাছে গিয়ে পাখিটিকে উদ্ধার করেন এবং রোদে শুকিয়ে সুস্থ করে তোলেন। শারীরিক সক্ষমতা ফিরে পাওয়ার পর পাখিটিকে পুনরায় প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সাধারণত ১৫ থেকে ১৭ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের এই পাখিটির উজ্জ্বল নীল-সবুজ পালক, চোখের চারপাশ ও ঠোঁটের গোড়ার কালচে রঙের সাজ বেশ নজরকাড়া। বাংলাদেশে এটি মূলত শীতকালীন পরিযায়ী পাখি হিসেবে পরিচিত। বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশির বুক চিরে জেগে ওঠা চর বিজয় যেন দিনদিন হয়ে উঠছে উপকূলের নতুন জীববৈচিত্র্যের ঠিকানা।
পরিবেশবাদীদের মতে, চর বিজয়ের মতো নির্জন দ্বীপে এই প্রজাতির পাখির উপস্থিতি সেখানকার সমৃদ্ধ পরিবেশের ইতিবাচক বার্তা বহন করে। উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক কেএম বাচ্চু জানান, পরিযায়ী পাখিদের এই নিয়মিত আনাগোনা প্রমাণ করে যে, চর বিজয় উপকূলীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য একটি নিরাপদ আবাসস্থল। তবে পাখিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিকার, জাল পাতা বা ফাঁদ ধরার মতো কর্মকাণ্ড বন্ধ করা জরুরি। একইসঙ্গে পর্যটকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রেখে বনায়ন ও সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভেরডিটার ফ্লাইক্যাচার শীতে একা বা ছোট দলে বিচরণ করে থাকে।
বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, প্রায় ২৩০ একর আয়তনের এই দ্বীপটিতে নিয়মিত বনায়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দ্বীপের পরিবেশ সবুজে ভরিয়ে তুলতে এরই মধ্যে ঝাউ, হেঁতাল, গেওয়া ও গোলপাতাসহ নানা প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয়েছে। সারা বছরই এখানে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির বিচরণ লক্ষ্য করা যায়, যা এই অঞ্চলের ইকোসিস্টেমের উন্নতির ইঙ্গিত দেয়। প্রায় ২৩০ একর আয়তনের দ্বীপটিতে নিয়মিত বনায়ন কার্যক্রম চলছে।
কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও চর বিজয়ের জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় নজরদারি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, শীত মৌসুমের শুরু থেকেই চর বিজয়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পাখির আগমন ঘটে। এছাড়া দ্বীপজুড়ে প্রচুর লাল কাঁকড়ার বিচরণ রয়েছে। পরিবেশ ও প্রাণিকূলের ভারসাম্য রক্ষায় দ্বীপটি রক্ষণাবেক্ষণে প্রশাসন সব ধরনের সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও গতিশীল করার পরিকল্পনা নিয়েছে। দ্বীপজুড়ে লাল কাঁকড়ারও বিচরণ রয়েছে।





