১৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে এলএনজি সরবরাহ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত

প্রকাশ:

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার জের ধরে এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে ‘ফোর্স ম্যাজুর’ বা নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত পরিস্থিতির মেয়াদ আরও এক মাস বাড়িয়েছে কাতার। এর ফলে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে জ্বালানি সরবরাহ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নভেম্বর মাস পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা ব্লুমবার্গকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সাধারণত কোনো চুক্তির শর্ত পূরণ করতে না পারার ক্ষেত্রে এই ফরাসি শব্দটির আশ্রয় নেওয়া হয়, যা কোনো পক্ষকে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির দায় থেকে মুক্তি দেয়।

কাতারএনার্জি চলতি সপ্তাহে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই বর্ধিত মেয়াদের বিষয়ে অবহিত করেছে। শুধু এই দুই দেশই নয়, ভারতের অন্তত একজন এলএনজি ক্রেতাকেও সরবরাহ বন্ধের বিষয়টি জানানো হয়েছে। ইতালির জ্বালানি কোম্পানি এডিসন এসপিএ-ও জানিয়েছে যে, তাদের এলএনজি সরবরাহ ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। কাতারএনার্জির কাছে বিষয়টি নিয়ে মন্তব্যের অনুরোধ করা হলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি। তবে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই নিয়মিতভাবে ‘ফোর্স ম্যাজুর’ পরিস্থিতির কথা জানিয়ে আসছেন তারা।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহের পরিমাণ চলতি মাসে কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও তা যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতির তুলনায় অনেক কম। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, প্রণালি খুলে দেওয়ার শর্তে তারা কোনো ছাড় দেবে না। এই বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের পর পরিস্থিতি নিয়ে পরস্পরবিরোধী বার্তা পাওয়া যাচ্ছে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানির এই সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে এই অচলাবস্থার কারণে এশিয়া ও ইউরোপে এলএনজির দাম ২০২২ সালের শেষ প্রান্তিকের পর বর্তমানে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন চাপের সৃষ্টি করেছে।

শেয়ার করুন