১৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলোচনা করে সংবিধান সংশোধন করতে চায় সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ:

সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে চায়। মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। এরপরে সেই প্রতিবেদন ভিত্তিতে বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হবে।

আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আলোচনার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দ্বার উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এর অংশ হিসেবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সরাসরি জড়িত বিভিন্ন সামাজিক শক্তি, প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে বৈঠক করা হবে। আমরা আহ্বান জানাই, তারা যেন সংবিধান সংশোধন কমিটিতে নাম দেন, অন্তর্ভুক্ত হন এবং আলোচনায় আসেন।

ভুক্তভোগী ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের গুরুত্ব

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিগত ১৭ বছরে যারা গুম, খুন ও বিভিন্ন ধরনের নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাদের পরিবারের সদস্য এবং ভুক্তভোগী জীবিত ব্যক্তিদের সঙ্গেও সরকার প্রতিনিধিত্বমূলক আলোচনার আয়োজন করবে। এরপর সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সুপারিশের জন্য সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করা হবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও পার্লামেন্টের গঠন নিয়ে প্রস্তাব

বৈঠকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে দুই কক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট গঠনের প্রয়োজনীয়তা আছে কি না, তা পুনর্বিবেচনা করার প্রস্তাব এসেছে। এছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি নিয়েও আমন্ত্রিত অতিথিরা তাদের নিজস্ব চিন্তাভাবনা তুলে ধরেছেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘অতিথিদের বক্তব্য আমরা রেকর্ড করেছি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির গঠন প্রক্রিয়া ও কাঠামো কেমন হওয়া উচিত, সে বিষয়ে সবার কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে। একটি উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমেই সংবিধানের সংশোধনী বিষয়ক একটি গ্রহণযোগ্য খসড়া তৈরির প্রচেষ্টা চলছে।’ সেই বিবেচনায় তারা বলেছেন, এটা পুনর্বিবেচনা করা যায় কিনা। আমরা সবার সাথে আলোচনা করে অংশগ্রহণমূলক ইনক্লুসিভ একটা সংশোধনী আনতে চাই। এভাবে আমরা প্রায় সকল শ্রেণিপেশার ব্যক্তিদের সাথে, তাদের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করে সমাজের একটা চিত্র, মতামত, পরামর্শ নেওয়ার চেষ্টা করব।

শেয়ার করুন