আগামী বছরের জানুয়ারিতে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন বিল উত্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটির আহ্বায়ক সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি-সংক্রান্ত ৮ অনুচ্ছেদসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব সংশোধনের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী গণভোটের আয়োজন করা হবে।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের গণমাধ্যম সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন সালাউদ্দিন আহমদ। এর আগে কমিটি জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করে। কমিটির আহ্বায়ক জানান, সাংবাদিকরা সংবিধানের প্রস্তাবনা থেকে শুরু করে তফসিল এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত মতামত ও প্রস্তাব দিয়েছেন। পর্যায়ক্রমে এসব প্রস্তাব সংকলন করে প্রতিবেদন ও পুস্তিকা আকারে প্রকাশ করা হবে।
সংসদীয় এই কমিটিতে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈঠকে সম্পাদকরা বিরোধী দলকে যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন, যার সঙ্গে কমিটিও একমত পোষণ করেছে। বিরোধী দলকে একাধিকবার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং তারা যোগ দিলে স্বাগত জানানো হবে। তিনি বলেন, বিভক্তি নয় বরং ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সংবিধান সংশোধনের কাজটি সম্পন্ন করতে চায় বর্তমান কমিটি।
গণভোটের গুরুত্ব নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ৫ আগস্ট ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের পর সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল হওয়ায় ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবনা ও ৮, ৪৮, ৫৬ ও ১৪২ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনা হতে পারে। এছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সুরক্ষায় গণভোটের বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব এসেছে। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ভবিষ্যতে যেন কোনো সংসদ সহজে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করতে না পারে, সেজন্যই এ সুরক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
কমিটির প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-কে চিহ্নিত করেছেন সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি আরও জানান, সংবিধানের প্রস্তাবনা ও ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ ফিরিয়ে আনা হবে, যা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় সংবিধানে যুক্ত ছিল। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন তৈরির কাজ শেষ করে তা সংসদে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে। আইন মন্ত্রণালয় সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিল তৈরি করবে এবং জানুয়ারির প্রথম অধিবেশনে তা তোলা হবে। সবশেষে আলোচনার পর বিল পাস হলে গণভোটের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত করা হবে।





