কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ক্যাম্পাস এবং এর পার্শ্ববর্তী কোটবাড়ী এলাকায় কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে যৌথ বাহিনী। চলমান এই অভিযানে এখন পর্যন্ত মোট ১২ জনকে আটক করা হয়েছে। কোটবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মফিজ উদ্দিন ভূঁইয়া জানিয়েছেন, পুলিশ লাইন থানা থেকে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযান পুরো জেলাজুড়েই চলছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত এলাকা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। কোটবাড়ী এলাকা থেকেই ৪ জনকে আটক করা হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রক্টর অফিস শিক্ষার্থীদের জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। অভিযানে থাকা অবস্থায় যেকোনো প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের নিজস্ব পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) সাথে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি কুবি’র বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী সন্তান ও বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের ছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার পর থেকেই কোটবাড়ী ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দেয়।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার। সেদিন বিকেলে গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে বন্ধুদের সাথে ছবি তোলার কথা বলে বেরিয়ে সে আর ফেরেনি। পরদিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ মোড় সংলগ্ন ম্যাজিক প্যারাডাইসের পাশে সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ এ পর্যন্ত সাইফুল ইসলাম তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসান নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছে যে, আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করলে কিশোর অপ্রতিম প্রাণ হারায়। আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরেই কোটবাড়ী ও লালমাই পাহাড় পাদদেশীয় এলাকায় মাদক ও কিশোর অপরাধের দৌরাত্ম্য নিয়ে স্থানীয়রা উদ্বেগ জানিয়ে আসছিলেন। সন্ধ্যা নামলেই পাহাড়ি এলাকায় অপরিচিত কিশোরদের আনাগোনা বাড়তে থাকে, যা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শরীফুল করিমও জানিয়েছেন, পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় জনসমাগম বেশি থাকায় নজরদারি বাড়ানো জরুরি। অপ্রতিমের মৃত্যুর পর শিক্ষার্থীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছিলেন। কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের প্রভাব কমাতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক তৎপরতা চালানো হচ্ছে। বুধবার রাতে কুমিল্লা জেলার ১৮টি থানায় একযোগে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়, যেখানে মোট ৬২৪ জনকে বিভিন্ন অভিযোগে আটক করা হয়েছে। অপ্রতিমের দুঃখজনক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের বিরুদ্ধে পুলিশের এই সাঁড়াশি অভিযান এখন চলমান রয়েছে এবং পুরো জেলায় পুলিশের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। চাকরির আরও তথ্য: এছাড়া যৌথবাহিনীর অভিযানে কিশোর গ্যাং ও মাদকের সঙ্গে যুক্ত ১২ জনকে আটক করা হয়েছে। চাকরির আরও তথ্য: প্রক্টর অফিস সূত্র জানায়, অভিযান চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে চলাচলের সময় পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) সঙ্গে রাখতে হবে। চাকরির আরও তথ্য: সংবাদ প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয় ও কোটবাড়ী এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই এ অভিযান শুরু হলো। চাকরির আরও তথ্য: ঘটনার পর ‘আইফোন কাল হলো অপ্রতিমের’ ও ‘কোটবাড়ীতে কিশোর গ্যাংয়ের ‘রাজত্ব’’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। চাকরির আরও তথ্য: শিক্ষার্থীরা জানায়, সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসের সামনে ও আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় অপরিচিত কিশোর-তরুণদের আনাগোনা বেড়ে যায়।





