৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন তথ্য: প্রয়োজন হলে এয়ারবাসের সঙ্গেও আলোচনা: মাহদী আমিন

প্রকাশ:

বোয়িংয়ের সঙ্গে নতুন করে ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তিতে পৌঁছানোর পর, ভবিষ্যতে ফ্রান্সের এয়ারবাসের সঙ্গেও আলোচনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলের লবিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের এভিয়েশন খাত সম্প্রসারণ এবং নতুন রুট চালুর সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ কারণে চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় উড়োজাহাজ সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে এয়ারবাসের সঙ্গেও আলোচনার পথ খোলা রাখা হয়েছে।

বোয়িংয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের উপস্থিতি

বোয়িংয়ের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির মাধ্যমে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে। এই সমঝোতা প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক, উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লান্ডাউ, আন্ডার সেক্রেটারি অব কমার্স উইলিয়াম কিমিট এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরসহ মার্কিন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বোয়িংয়ের একটি প্রতিনিধিদল পরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে বলেও মাহদী আমিন সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের দ্বিতীয় দিনে স্বাস্থ্য, কৃষি, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে বৈঠকে স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে সহযোগিতা বাড়ানো, কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশে টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তোলার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিনিয়োগ ও অভিবাসন এবং ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।

রোহিঙ্গা সংকট ও আন্তর্জাতিক কূটনীতি

  • রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ উদ্যোগে জাতিসংঘের সাইডলাইনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।
  • বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নেওয়ায় এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের ওপর বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও মানবিক চাপ তৈরি হয়েছে।
  • রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীন ও ভারতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন জানান, বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় উভয় পর্যায়েই সংশ্লিষ্ট দেশ ও অংশীদারদের সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ রক্ষা করছে।
  • চীন বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন অংশীদার এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে দেশটির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
  • মিয়ানমারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, কূটনীতিতে সব বিকল্প খোলা রাখতে হয়, তাই আলোচনার পথ বন্ধ করা যাবে না।

জলবায়ু পরিবর্তন ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি

জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেছেন। এছাড়া নদী-খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, নবায়নযোগ্য ও সৌর জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানোর সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবসময় শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। বন্ধুত্বপূর্ণ ও নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সংলাপের সুযোগ তৈরিতে বাংলাদেশ ভূমিকা পালন করতে পারে। চলমান সংঘাতের ফলে জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্য ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের ওপর যে বিরূপ প্রভাব পড়ছে, তা বিবেচনায় নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী আলোচনায় তুলে ধরেছেন। পরিশেষে মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের জাতিসংঘ সফরের আরও দুই দিন কর্মসূচি বাকি রয়েছে এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বাংলায় ভাষণ দেবেন। সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর, শামা ওবায়েদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব সালেহ শিবলী ও অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রেস উইংয়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন