৩ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিমের দাম কিছুটা কমলেও অস্বস্তি কাটেনি মাছ-মাংসে

প্রকাশ:

রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে ডিমের দামে কিছুটা স্বস্তি মিললেও মাছ, মুরগি ও মাংসের বাজারে স্বস্তির ছিটেফোঁটা নেই। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের তুলনায় ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা কমেছে। গত সপ্তাহে যেখানে প্রতি ডজন ডিম ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেখানে বর্তমানে তা ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, ব্রয়লার সাদা ডিম ১৪০ টাকা এবং ব্রাউন ডিম ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা ডজন দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের দাম কিছুটা কমলেও অন্যান্য আমিষ জাতীয় খাবারের দামে বড় কোনো পরিবর্তনের দেখা মেলেনি। রাজধানীর বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস আগের মতোই ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির দরও স্থিতিশীল রয়েছে; সপ্তাহের ব্যবধানে এটি ১৯০ টাকা কেজি দরেই বিক্রি হচ্ছে। তবে সোনালি, হাইব্রিড ও লেয়ার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা করে কমেছে। বর্তমানে সোনালি মুরগি ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা এবং লেয়ার ৩৫০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।

সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন সীমিত আয়ের মানুষ, কারণ তুলনামূলক কম দামের পাঙাশ ও তেলাপিয়া মাছের দামও এখন নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। বর্তমানে চাষের পাঙাশ প্রতি কেজি ২৩০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অনেক ক্রেতাই জানিয়েছেন, এসব মাছ কিনতে কেজিপ্রতি কমপক্ষে ২৫০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। এছাড়া কিছু মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে, আবার কিছু ক্ষেত্রে ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে। মাছের দামের এই অস্থিরতায় মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জন্য আমিষের জোগান দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাজারে অন্যান্য মাছের মধ্যে আকারভেদে চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা এবং বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের রুই পাওয়া যাচ্ছে ২৭০ থেকে ৩৫০ টাকায়। এছাড়া ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, দেশি কই ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ২৬০ টাকা, বাইম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের শিং মাছের দাম আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা। তবে রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে ক্রেতাদের কেজিপ্রতি হাজার টাকার বেশি খরচ করতে হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, সাধারণ ক্রেতারা নিত্যপণ্যের এই উচ্চমূল্য নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সোনালি মুরগির দাম ২১০ টাকা ছিল, আজকেও ২১০ টাকাতেই বিক্রি হচ্ছে।

শেয়ার করুন