৩১ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদি আরবে হুতিদের নতুন হামলা, হরমুজ নিয়ে বৈঠক স্থগিত

প্রকাশ:

ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় খামিস মুশাইত এলাকার একটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। সোমবার হুতিদের দাবি অনুযায়ী, কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে বিমানঘাঁটির রানওয়ে, রাডার ব্যবস্থা, হ্যাঙ্গার এবং গোলাবারুদের গুদাম লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তারা জানিয়েছে। সৌদি জোটের তথ্যমতে, এই হামলায় ১৩ জন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন এবং খামিস মুশাইতসহ দক্ষিণের তিনটি শহরে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

হুতিরা কেবল সৌদি আরবের অভ্যন্তরেই নয়, বরং লোহিত সাগরের উপকূলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও সংহত করছে। তারা কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপ দখলের পাশাপাশি ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলের বিস্তৃত এলাকায় প্রভাব বাড়িয়ে তুলেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনটি গত বৃহস্পতিবার থেকে অচল হয়ে আছে, যা মূলত ১৯৮০-এর দশকে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর লক্ষ্য নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, পাইপলাইনটি বন্ধ থাকা এবং হরমুজ প্রণালিতে অচলবস্থা অব্যাহত থাকলে বিশ্ববাজারে প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত তেল সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে।

আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়ে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে ওমানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে। ইরান জানিয়েছে, সৌদি আরবের অনুরোধেই এই বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। এদিকে হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ ‘এল গায়া’ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি উঠেছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের দাবি, নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশের সময় জাহাজটি সমুদ্রের মাইনে আঘাত পেয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই দাবি নাকচ করে জানিয়েছে, জাহাজটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা জানিয়েছে, শনিবার এই ঘটনায় জাহাজটির দুই নাবিক নিখোঁজ হয়েছেন।

ইয়েমেনের এই সংঘাতের বিস্তার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। যদিও সৌদি আরব সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানিয়েছে, ওয়াশিংটন এখনো কেবল গোয়েন্দা সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। সোমবার সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের বৈঠক হয়েছে। বর্তমানে লোহিত সাগরের বন্দর মোখার আশপাশে সৌদি ও ইয়েমেনি বিমানবাহিনী পাল্টা হামলা জোরদার করলেও, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের কর্মকর্তাদের দাবি, পশ্চিম উপকূলের প্রায় পুরো অংশই এখন হুতিদের নিয়ন্ত্রণে।

রিয়াদ এ হামলার জন্য ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়াদের দায়ী করেছে।উপসাগর থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ওই পাইপলাইনটি ১৯৮০-এর দশকে নির্মাণ করেছিল সৌদি আরব।

আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল রপ্তানি যে জলপথ দিয়ে হতো, যুদ্ধ শুরুর পর ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সেটি প্রায় বন্ধ রয়েছে।

শেয়ার করুন