৩১ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেকারি পণ্যের দাম বাড়ল ৫ টাকা, শ্রমজীবী মানুষের খরচ বৃদ্ধি

প্রকাশ:

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কাটাসুর এলাকার বাসিন্দা মো. আলমগীর পেশায় একজন রিকশাচালক। প্রতিদিন ১০-১২ ঘণ্টা রিকশা চালানোর ফাঁকে তাঁকে তিন-চারবার নাশতা করতে হয়। আগে প্রতিবার একটি বনরুটি ও এক কাপ দুধ চা মিলিয়ে তাঁর খরচ হতো ২০ টাকা। কিন্তু গত রবিবার থেকে সেই খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ টাকায়। কারণ, বাজারে বনরুটির দাম পিসপ্রতি ৫ টাকা বেড়েছে। শুধু আলমগীর নন, রাজধানীর অধিকাংশ এলাকায় এখন বেকারির তৈরি খোলা পাউরুটি ও কেক বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। ঢাকার বাইরে কিছু অঞ্চলে দাম না বাড়লেও অনেক জায়গায় পণ্যের আকার ও ওজন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্রেড বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে প্রায় ৭ হাজার ক্ষুদ্র বেকারি রয়েছে, যার মধ্যে ঢাকায় রয়েছে ৭০০টির বেশি। কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে গত শনিবার থেকে তারা রুটির দাম বাড়িয়েছে। সংগঠনটির দাবি, রুটি, বিস্কুটসহ বিভিন্ন বেকারি পণ্যের দাম ও ওজন সমন্বয় করা হয়েছে, যা সব মিলিয়ে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, হাতে তৈরি সাধারণ মানের বিস্কুটের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা হয়েছে। বনরুটি ও মাফিন কেকের ক্ষেত্রে দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি ওজনেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে ৪০ গ্রাম ওজনের পণ্যগুলোর ওজন কমিয়ে ৩৫ গ্রাম করা হয়েছে। আবার ১০ বা ১২ টাকা দামের বনরুটির দাম বাড়িয়ে ১৫ টাকা করা হয়েছে, যদিও এর আকার সামান্য বড় করা হয়েছে। এই মূল্য সমন্বয়ের আগে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার রাজধানীর বেকারি কারখানাগুলোতে উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছিল। দুই দিন বন্ধ থাকার পর শনিবার সকাল থেকে নতুন নির্ধারিত মূল্যে বাজারে পণ্য সরবরাহ শুরু হয়।

বেকারি মালিকদের মতে, গত দেড়-দুই বছরে ময়দা, চিনি, ডালডা, সয়াবিন তেল ও গ্যাসসহ উপকরণের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যমতে, ছয় মাস আগের তুলনায় খোলা ময়দার দাম প্রায় ৩০ শতাংশ, সয়াবিন তেল ৫ শতাংশ এবং চিনির দাম গড়ে ১১ শতাংশ বেড়েছে। ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন জানান, গত এক বছরে উৎপাদন খরচ ২০-২৫ শতাংশ বাড়লেও পণ্য উৎপাদন ১০-১৫ শতাংশ কমেছে। সমিতির সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন বলেন, কাঁচামালের অস্বাভাবিক দামের কারণে খরচ সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়ায় তারা এই মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে বেকারি পণ্যের এই মূল্যবৃদ্ধি নিম্নবিত্ত ও খেটে খাওয়া মানুষের খরচের পাল্লা আরও ভারী করেছে। মোহাম্মদপুরের আওরঙ্গজেব সড়কের চা বিক্রেতা জব্বার শেখ জানান, গত এক মাসে চা পাতা ও চিনির দাম বাড়লেও তিনি চায়ের দাম বাড়াতে পারেননি। এখন রুটি-কেকের দাম বাড়ায় তাঁর বেচাকেনা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ঢাকার বাইরে খুলনা, চট্টগ্রাম ও সাভারের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, রবিবার পর্যন্ত এসব এলাকায় বনরুটি ও কেক আগের দামেই বিক্রি হয়েছে।

চিনির দামও আগের তুলনায় কেজিতে ৫-১০ টাকা বেড়েছে।

শেয়ার করুন