৩০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৮তম ব্রিকস সামিট: অগ্রগতি ও প্রশ্নবোধক রেশ নিয়ে সমাপ্তি

প্রকাশ:

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস সামিটে এশিয়ার তিন প্রভাবশালী নেতা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একত্রিত হয়েছেন। ১১টি সদস্য দেশ এবং ১০টি পার্টনার দেশকে নিয়ে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনটি টেকসই আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সমৃদ্ধির ওপর জোর দিলেও এর সমাপ্তি ঘটেছে কিছু প্রশ্নবোধক চিহ্ন রেখে। দুই দিনের এই সম্মেলনে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর সরকার প্রধান ও প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন, তবে ভারত ও চীনের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক আঞ্চলিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই তিন নেতার দিকেই ছিল সবার মূল দৃষ্টি।

সম্মেলনের শেষ দিনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উদীয়মান বাজার ও গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনের আহ্বান জানান। তিনি ৫ দফা পরিকল্পনা উত্থাপন করেন, যার মধ্যে রয়েছে ১. উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) উদ্যোগ, ২. বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজীকরণ উদ্যোগ, ৪. বুদ্ধিমান উৎপাদন বা স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে সহযোগিতা উদ্যোগ ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে প্রতিভা উন্নয়ন। শি জিনপিং ব্রিকস এআই ওপেন সোর্স কমিউনিটি ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছেন। এছাড়া ডিজিটাল ইকোসিস্টেম ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম ও স্মার্ট কারখানা নির্মাণে চীন অন্যান্য সদস্য দেশকে সহায়তা করতে প্রস্তুত বলে জানান তিনি।

সম্মেলনের প্রথম দিন শনিবার রাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আয়োজিত নৈশভোজে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও আবু ধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহামেদসহ কয়েকজন নেতা অনুপস্থিত ছিলেন। শি জিনপিং নৈশভোজ এড়িয়ে গেলেও তাতে অংশ নেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও অন্য নেতারা। ভারতের কিছু কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীরাও উপস্থিত ছিলেন। এনডিটিভি’র তথ্যমতে, শি জিনপিং দীর্ঘ কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডে ক্লান্ত ও বিধ্বস্ত থাকায় নৈশভোজে যোগ দিতে পারেননি। তবে এই যুক্তি নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ব্রিকসের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের প্রশংসা করেন। তিনি ব্রিকসের নিজস্ব পেমেন্ট অবকাঠামো, পুনর্বীমা ব্যবস্থা এবং গ্রেইন এক্সচেঞ্জ বা শস্যবাজার প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন।

ভারত ও চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। সম্মেলনের শেষ দিনে নরেন্দ্র মোদি ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকে দুই নেতা একমত হন যে, মতপার্থক্য থেকে বিরোধ সৃষ্টি হওয়া উচিত নয়। তারা ২০২৫ সালের আগস্টে তিয়ানজিনের বৈঠকের পর চলমান সম্পর্কের অগ্রগতিকে স্বাগত জানান। এদিকে, সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সাফ জানিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কাছে আত্মসমর্পণ করবে না ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে একটি যৌথ ঘোষণা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। এছাড়া বাণিজ্য বিকৃতকারী একতরফা শুল্ক ব্যবস্থার বিরুদ্ধেও সদস্য দেশগুলো উদ্বেগ জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ এই সম্মেলনে যোগ দেয়নি। আমন্ত্রণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বা তার কোনো প্রতিনিধি এতে অংশ নেননি। তবে ১২ ও ১৩ই সেপ্টেম্বর দুইদিনের এ সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়েছিল। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্মেলনের সমাপ্তি বক্তব্যে ব্রিকসকে একটি পরিণত জোট হিসেবে অভিহিত করে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

শেয়ার করুন