রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে পুরো মৌসুমে কোনো শিরোপা জিততে না পারা এবং স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ অভিযান সেমিফাইনাল থেকে শেষ হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও এবারের ব্যালন ডি'অর পুরস্কার পাওয়ার ক্ষেত্রে নিজেকেই যোগ্য দাবি করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ২৭ বছর বয়সী এই ফরাসি তারকা 'ফ্রান্স ফুটবল'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের কারণে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃতি তারই পাওয়া উচিত বলে দৃঢ় মত প্রকাশ করেছেন।
নিজের সম্ভাবনা নিয়ে এমবাপ্পে বলেন, আমি বিশ্বাস করি এ বছর এটি আমি জিততে পারি। এটি আমার অন্যতম লক্ষ্য এবং স্বল্পমেয়াদী এক স্বপ্ন। তিনি আরও বলেন, মানুষ বলছে আমি কোনো ট্রফি জিতিনি, কিন্তু এটি তো একটি ব্যক্তিগত পুরস্কার। আমি কখনো কাউকে সর্বসম্মতিক্রমে ব্যালন ডি'অর জিততে দেখিনি। কেউ কি কখনো ১০০% ভোট পেয়ে জিতেছে? তার মানে সব সময়ই এমন কেউ না কেউ থাকে যিনি মনে করেন বিজয়ীর এটি প্রাপ্য ছিল না।
পুরস্কারের মাপকাঠি সম্পর্কে এমবাপ্পের ভাষ্য, ব্যালন ডি'অর নিয়ে আমার ভাবনা এসেছে মেসি ও রোনালদোর যুগ থেকে—আপনি তো সাধারণ কোনো খেলোয়াড়কে এটি দেন না, আপনি দেন এমন খেলোয়াড়দের যারা অনন্য ও ব্যতিক্রমী। আমি মনে করি এ বছর আমি ব্যতিক্রমী কিছু করে দেখিয়েছি, তাই বিশ্বাস করি এটি আমি জিততে পারি। তিনি আরও যোগ করেন, আমার চেয়ে ভালো খেলোয়াড় কেউ ছিল না। আমরা যদি অর্জনের কথা বলি—সব সেরা খেলোয়াড়দের উপস্থিতিতে বড় প্রতিযোগিতাগুলোতে এত গোল করা, এবং অবশ্যই সর্ববৃহৎ টুর্নামেন্ট বিশ্বকাপে বিশ্বরেকর্ড গড়ে টুর্নামেন্টের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া, আমার পুরো ছুটির সময়টজুড়ে মানুষ শুধু এটি নিয়েই কথা বলেছে।
বিশ্বকাপের রেকর্ড স্মরণে এমবাপ্পে বলেন, বিশ্বকাপের গুরুত্ব পুরোপুরি বোঝা কঠিন। এটি বিশ্বসেরা খেলোয়াড়দের, তারকাদের এবং ফুটবলের ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়দের মঞ্চ। আর ২৭ বছর বয়সেই নিজেকে দেশের ও টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে দেখা… এবং এটি আরও বিশেষ কিছু কারণ এই রেকর্ডটি আমি কেড়ে নিয়েছি লিও মেসির কাছ থেকে, যিনি অনেকের কাছেই ক্রিশ্চিয়ানোর পাশাপাশি ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়। এটি সত্যিই অসাধারণ। এই ধরনের অর্জন আসলেই অন্যরকম। স্পেনের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিদায়ের আগে এমবাপ্পে চ্যাম্পিয়নস লিগে ১৫টি এবং লা লিগায় ২৫টি গোল করেন। এরপর বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ২২-এ নিয়ে গিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার বিশ্বরেকর্ড নিজের নামে করে নেন।
সাক্ষাৎকারে এমবাপ্পে ফ্রান্সের নতুন কোচ হিসেবে জিনেদিন জিদানের নিয়োগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ফরাসিদের কাছে তিনি অনেক কিছু—তিনি এক জীবন্ত কিংবদন্তি, তিনি দেশের 'জিজু', যিনি আভিজাত্য ও মহত্ত্বের প্রতীক। খেলোয়াড় হিসেবে তিনি জাতীয় দলের ইতিহাসে নিজের ছাপ রেখে গেছেন এবং তাঁর কিছু আইকনিক মুহূর্ত রয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, তিনি হয়তো সেই খেলোয়াড় যিনি ফরাসি দলকে সবচেয়ে বেশি মূর্ত করে তোলেন। তিনি এমন এক খেলোয়াড় যিনি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়েছেন। ফরাসি ফুটবলের ইতিহাসে তিনি এক মুছে না যাওয়া ছাপ রেখে গেছেন।





