কালীগঞ্জে পোলট্রি বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন, সাশ্রয়ী উদ্যোগ

প্রকাশ:

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের বান্দাখোলা এলাকায় ‘খান এগ্রো’ নামের একটি খামারে মুরগির বিষ্ঠা থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদনের মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করা হয়েছে। খামারের মালিক এ কে এম সবুজের এই উদ্যোগ পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সিরাজগঞ্জ জেলার বাসিন্দা এ কে এম সবুজ তিন বছর আগে সাত হাজার লেয়ার মুরগির এই খামারটি স্থাপন করেন।

খামারে প্রতিদিন উৎপন্ন বিপুল পরিমাণ বিষ্ঠা পানির সাথে মিশিয়ে তরল করা হয়। মুরগির গৃহীত খাবারের প্রায় ৬০ শতাংশ বর্জ্য হিসেবে বেরিয়ে আসে। এই তরল বিষ্ঠা পাইপের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে দুটি ছোট-বড় চৌবাচ্চায় জমা হয়। এরপর সেখান থেকে ১২ ফুট গভীর গম্বুজাকৃতির একটি আবদ্ধ ডোমে নেওয়া হয়, যেখানে অ্যানারোবিক ডাইজেশন প্রক্রিয়ায় মিথেন ও অন্যান্য গ্যাস উৎপন্ন হয়। ডোমে গ্যাসের চাপ বাড়লে পাইপের মাধ্যমে তা রান্নার কাজে ব্যবহারের জন্য স্থানীয় গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ করা হয়।

বর্তমানে উৎপাদিত ২০ ঘনফুট বায়োগ্যাস ২৭টি পরিবার রান্নার কাজে ব্যবহার করছে। প্রতি চুল্লি বাবদ মাসিক ৭০০ টাকার বিনিময়ে এই গ্যাস সরবরাহ করা হয়। বায়োগ্যাস উৎপাদনের পর অবশিষ্ট বর্জ্য বা স্লারি একটি বড় হাউজে জমা করা হয়, যা পরে কৃষি জমিতে অত্যন্ত পুষ্টিকর জৈব সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুল হাসান জানান, অপরিশোধিত পোলট্রি বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস তৈরি একটি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব প্রক্রিয়া। এটি খামারের আশপাশের পরিবেশকে দুর্গন্ধ ও গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন থেকে রক্ষা করে। তিনি আরও বলেন, যাদের বাড়িতে চারটি গরু রয়েছে, তাদের গ্যাসের চাহিদা পূরণে বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করা জরুরি।

স্থানীয় খামারিদের মতে, মুরগির বিষ্ঠা ব্যবস্থাপনা তাদের জন্য দীর্ঘদিনের সমস্যা ছিল। খান এগ্রোর এই সফল উদ্যোগটি অন্যান্য খামারিদের জন্যও একটি অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে। সঠিক প্রযুক্তির প্রয়োগে মুরগির মল কেবল বর্জ্য নয়, বরং মূল্যবান জ্বালানি সম্পদে পরিণত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুন