গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। মুমূর্ষু অবস্থায় গৃহবধূ শাহিনা বেগমকে (২২) হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করার পরপরই নিহতের স্বামী মোরসেলিম আকাশ সিয়াম তার প্রাইভেটকার নিয়ে হাসপাতাল চত্বর থেকে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত পুলিশ তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।
নিহত শাহিনা আক্তার সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর গ্রামের মৃত শাহাজাদা মিয়ার মেয়ে ছিলেন এবং পলাশবাড়ী সরকারি কলেজের সমাজবিজ্ঞান অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী হিসেবে পড়াশোনা করছিলেন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত স্বামী মোরসেলিম আকাশ সিয়াম পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মাজহারুল ইসলাম মিতুর ছেলে।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিয়াম নিজেই প্রাইভেটকার চালিয়ে স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ইসিজি করার পর শাহিনাকে মৃত ঘোষণা করলে সিয়াম দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। হাসপাতালের আনসার সদস্যরা তাকে থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় এবং সিয়াম নিজের এলাকায় ফিরে গেলে স্থানীয়রা তাকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পলাশবাড়ী থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক হৃদয় মণ্ডলের ভাষ্যমতে, চিকিৎসক মৃত ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই সিয়ামের অসংলগ্ন আচরণ উপস্থিত লোকজনের মনে সন্দেহের উদ্রেক করে, যার ফলে তিনি জোরপূর্বক গাড়ি চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পরিবারকে না জানিয়েই সিয়াম ও শাহিনা বিয়ে করেছিলেন। তাদের দাম্পত্য জীবনে আয়াশ (৪) ও আয়াত (১) নামের দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। নিহতের মা রহিমা বেগম ও চাচা মাজিদুর রহমানের দাবি, সিয়াম একজন মাদকাসক্ত এবং বিয়ের পর থেকেই তুচ্ছ ঘটনায় শাহিনাকে প্রায়ই নির্যাতন করতেন। এমনকি ঘটনার আগের দিনও তাকে মারধর করা হয়েছিল, যার প্রেক্ষিতে পরিবার এটিকে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করেছে।
হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. শামা তাবাসসুম জানান, হাসপাতালে আনার আগেই শাহিনা বেগমের মৃত্যু হয়েছিল এবং তার গলার চারপাশে আঘাতের চিহ্ন বিদ্যমান। পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ারে আলম খান নিশ্চিত করেছেন যে, সিয়ামকে আটক করা হয়েছে এবং নিহতের শরীরে ও গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং বর্তমানে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।





