ইসির ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল জামায়াতের দাবি: নির্বাচন কমিশনার

প্রকাশ:

নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না বলে যে সমালোচনা জামায়াতে ইসলামী করেছে, তাকে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার কমিশনের ওপর চাপ তৈরির একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জামায়াতের সমালোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, আমি চাপে আছি নাকি স্বাধীন আছি, তা আমি জানি। বরং এই ধরনের মন্তব্য করে আমাদের চাপে রাখারই একটি ফর্মুলা হিসেবে আমি একে দেখছি। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন যেভাবে কাজ করে না বা আমরা যা করি না, তা যদি কেউ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন, তবে সেটি সঠিক নয়।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী নয় দফা দাবি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কয়েক দফায় বৈঠক করেছে। সর্বশেষ গত ১ সেপ্টেম্বর বৈঠক শেষে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, যেহেতু দলীয় সরকার ক্ষমতায়, তাই ইসির ওপর তাদের চাপ রয়েছে। তিনি এ সময় ইসির বক্তব্যে এক ধরনের অসহায়ত্ব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছিলেন। জামায়াতের নয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পদধারীদের অযোগ্য ঘোষণা এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়া।

এসব দাবির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, জামায়াতের ভাবনাচিন্তা তাদের মতো করে তারা করতেই পারেন, তবে সব ক্ষেত্রে তা সঠিক হবে না। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক পদধারীদের অযোগ্য ঘোষণার দাবি সম্পর্কে তিনি জানান, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী দলীয় মনোনয়ন ছাড়া অরাজনৈতিকভাবে নির্বাচন হবে এবং সে অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা সংশোধন করা হবে। তাই এ বিষয়ে কমিশনের আলাদা করে কিছু বলার সুযোগ নেই।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, তারা নির্বাচনে প্রার্থী হলে সহকর্মীরা তাদের পক্ষে কাজ করতে পারেন, আবার তারাই প্রিসাইডিং বা পোলিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। সম্মানিত শিক্ষকদের যাতে বিতর্কিত হতে না হয়, সেটি বিবেচনায় রেখে তাদের ভোটের বাইরে রাখার বিষয়ে কমিশনের পর্যবেক্ষণ রয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয়। তিনি জানান, এটি আইন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিসভায় যাওয়ার পর সংসদে উপস্থাপন করা হবে, যেখানে তর্ক-বিতর্কের পর আইন হিসেবে এলে তা কার্যকর হবে। সবার সম্মতিতে সিদ্ধান্ত হলে হবে, না হলে হবে না।

শেয়ার করুন