পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সাম্প্রতিক টেস্ট দল পুনর্গঠন ও আকস্মিক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটাঙ্গনে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেইন পিসিবির এই ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, বোর্ডের খামখেয়ালি সিদ্ধান্তের কারণে পাকিস্তান ক্রিকেট এখন বিশ্বজুড়ে একরকম হাসির খোরাকে পরিণত হয়েছে। তিনি বিশেষ করে দল বাঁচাতে মাঝপথে স্কোয়াডের বড় অংশকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়া এবং নবাগত খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে পুরোপুরি ‘হাস্যকর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
স্কাই স্পোর্টস ক্রিকেট পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাসের হুসেইন স্পষ্ট করেছেন যে, পাকিস্তানের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে তার রাগ বা সমালোচনা কোনো ঠাট্টা ছিল না। বরং একসময়ের ক্রিকেট পরাশক্তি এই দলটির বর্তমান করুণ দশা দেখে তার মনে তীব্র হতাশা তৈরি হয়েছে। নাসের বলেন, হেডিংলির পর পুরো বিশ্ব পাকিস্তানকে নিয়ে হাসছিল—বিষয়টি এমন নয়। বরং লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্ট শুরুর আগেই তার মনে এই ক্ষোভ ও হতাশা দানা বেঁধেছিল। তার মতে, পাকিস্তান দল তাদের লড়াকু মানসিকতা হারিয়ে ফেলেছে এবং বর্তমান দলটি অত্যন্ত ছন্নছাড়া পারফর্ম করছে।
ইংল্যান্ডের সাবেক এই অধিনায়ক আরও বলেন, ক্রিকেটের এই গ্রেট দেশটি এখন কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে, তা দেখে তিনি ব্যথিত। তার মতে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে এবং পিসিবির নীতিনির্ধারকদের হঠকারী সিদ্ধান্তই দলকে গভীর সংকটে ফেলেছে। অতীতে ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুস, ইনজামাম-উল-হক বা সেলিম মালিকদের মতো কিংবদন্তিদের লড়াইয়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, এককালের দুর্দান্ত এই ক্রিকেট পরাশক্তির গৌরব হারিয়ে ফেলাটা সত্যিই বেদনাদায়ক।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, সিরিজের মাঝপথে কোচ ছাঁটাই কিংবা খেলোয়াড় বদলের সংস্কৃতি পিসিবির উচ্চপর্যায়ে জবাবদিহিতার অভাবকে নির্দেশ করে। তাদের ভাষ্যমতে, সঠিক দূরদর্শিতা ও পেশাদার পরিকল্পনার পরিবর্তে পিসিবির এমন আকস্মিক সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের ঐতিহ্যবাহী টেস্ট ক্রিকেটকে আরও গভীরে ঠেলে দিচ্ছে। যতক্ষণ না বোর্ড এই প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা বন্ধ করে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করছে, ততক্ষণ পাকিস্তানের পক্ষে এই ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসা প্রায় অসম্ভব।





