লিবিয়ার তাজুরা বন্দিশিবির থেকে দীর্ঘ বন্দিজীবন শেষে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বুরাক এয়ারের বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন ১৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহায়তায় দেশে ফেরা এই দলে ছিলেন মশিউর রহমান ও সোহেল মিয়া। দীর্ঘ যাত্রার পর বিমানে ভাত পেয়ে মশিউর রহমান বলেন, ‘ভাতের দিকেই চাইয়া ছিলাম ভাই, মুখে কী দিব? বিমানে ভাত দেইখাই পেট ভরে গেছে।’
মাদারীপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা ৩৮ বছর বয়সী মশিউর রহমান নয় মাসের দীর্ঘ যাত্রায় ইউরোপে ভাগ্য বদলের আশায় ঘর ছাড়েন। গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ থেকে রওনা দিয়ে মালয়েশিয়ায় ১২ ঘণ্টা, শ্রীলঙ্কায় ২ দিন এবং কুয়েতে ২ ঘণ্টার ট্রানজিট পার করে তিনি মিসরে পৌঁছান। লিবিয়ায় বন্দী করা বা মারধরের ভয় দেখিয়ে ফোনে হুমকি দেওয়া হতো, সেই ভয়ে পরিবার আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে টাকা জোগাড় করে। অবশেষে তিন মাস আগে খমস থেকে কাঠের নৌকায় ৩০ বাংলাদেশি ও ৪ মিসরীয়কে নিয়ে সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার সময় ধরা পড়েন তিনি। যে কক্ষে সর্বোচ্চ ২০০ জন মানুষ থাকার জায়গা হতে পারত, সেখানে রাখা হয়েছিল ৫০০ জনকে। সেখানে কলের লোনাপানি খেয়েই তাঁদের বেঁচে থাকতে হয়েছে। অবশেষে ২৩ আগস্ট আইওএমের পক্ষ থেকে মশিউরের দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত হয় এবং ৩১ আগস্ট, সোমবার লিবিয়ার স্থানীয় সময় বেলা ২টার দিকে বিমানে ওঠেন তিনি।
একইভাবে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার বাসিন্দা ৩৬ বছর বয়সী সোহেল মিয়া ১৪ মাস আগে উন্নত জীবনের আশায় দেশ ছাড়েন। ইতালি যাওয়ার প্রচেষ্টায় তিনি দালালের পেছনে ৩৯ লাখ টাকা খরচ করেছেন। খমসে ফাইবার বোটে সমুদ্রে ভাসার পর সেনাবাহিনীর হাতে আটক হন সোহেল। এরপর তাজুরা বন্দিশিবিরে ৪৮ দিন অতিবাহিত করেন তিনি। সোহেল জানান, প্রচণ্ড গরমে দমবন্ধ পরিবেশে কাটানো সেই দিনগুলোতে কোরবানির ঈদও কেটেছে পাস্তা খেয়ে।
দেশে ফেরার পর সিআইডির পক্ষ থেকে আইনি সহায়তার জন্য যোগাযোগ নম্বর দেওয়া হয়েছে। সোহেল আর বিদেশে না যাওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, ‘আইওএম বলেছে, কিছু টাকা পাব আমরা। যদি দেশে একটা অটোরিকশার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়, খেটেখুটে দেনা পরিশোধ করব।’ মশিউরও ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দেশে ফিরেছেন। দালালের ফাঁদে পা দেওয়া এই দুই অভিবাসী এখন নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন।





