গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উঁচু রাম বিগ্রহ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে দেশজুড়ে আলোচনায় আসা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে এবার একটি প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন এই আদেশ প্রদান করেন। একই মামলায় আসামিপক্ষের জামিনের আবেদন করা হলে ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম তা নামঞ্জুর করেন। আসামির পক্ষে জামিন শুনানি পরিচালনা করেন আইনজীবী বাসুদেব গুহ।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, বেসরকারি কোম্পানির কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান গত ২৪ আগস্ট উত্তরা পশ্চিম থানায় হরিদাস চন্দ্র তরণী ও ওবাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানার আবেদনের প্রেক্ষিতে আসামির উপস্থিতিতে এই শুনানির আয়োজন করা হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, মাহবুবুর রহমান ও ওবাইদুল ইসলাম কলেজ জীবনের বন্ধু এবং তারা উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরে বসবাস করেন। ওবাইদুল নিজেকে ‘অনয় ডেভেলপার’ কোম্পানির মালিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকায় ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রলোভন দেখান। এই প্রলোভনে পড়ে মাহবুবুর রহমান ২০১৮ সালের ২৫ জুলাই থেকে ২০২১ সালের ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত ওবাইদুলকে ১০ লাখ ৮৫ হাজার টাকা দেন। পরবর্তীতে বাসার কাজ শেষ পর্যায়ে আছে জানিয়ে আরও ১৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়। একপর্যায়ে ওবাইদুল ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দিয়ে টালবাহানা শুরু করলে মাহবুবুর রহমান তার নিকুঞ্জ অফিসে যান। সেখানে ওবাইদুল তার ব্যবসায়িক পার্টনার হিসেবে হরিদাস চন্দ্র তরণীকে পরিচয় করিয়ে দেন। হরিদাস তখন তাকে আশ্বস্ত করেন যে তার কাছে ফ্ল্যাট আছে এবং তিনি তা বুঝিয়ে দেবেন। এই কথায় বিশ্বাস করে মাহবুবুর রহমান ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আরও ৪৫ লাখ টাকা প্রদান করেন। সব মিলিয়ে মোট ৭৫ লাখ ৮৬ হাজার টাকা দেওয়ার পরও তাকে কোনো ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।
এর আগে গত ১২ জুলাই ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অর্থপাচারের অভিযোগে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের এসআই সাইফুল ইসলাম উত্তরা পশ্চিম থানায় হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার পর রাতেই গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। আদালতের নির্দেশে চার দিনের রিমান্ড শেষে ১৬ জুলাই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।





