যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রভাবের পাল্টা শক্তি হিসেবে পরিচিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও)। মার্কিন প্রভাবকে মোকাবিলায় সোমবার কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে আয়োজিত এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে অন্য রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে মিলিত হয়েছেন চীন, রাশিয়া ও ভারতের নেতারা। এই সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন।
রুশ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সম্মেলনের ফাঁকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। পুতিন জানিয়েছেন, চীনের সঙ্গে ভিসামুক্ত ব্যবস্থা স্থায়ী করার জন্য মস্কো প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া এসসিওর আনুষ্ঠানিক অধিবেশনের পাশাপাশি মঙ্গলবার পুতিনের সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রাশিয়া ও ইরান এই সম্মেলনকে পশ্চিমা নয় এমন অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখছে। ২০০১ সালে চীন, রাশিয়া ও মধ্য এশিয়ার চারটি দেশ মিলে নিরাপত্তাবিষয়ক ফোরাম হিসেবে এসসিও প্রতিষ্ঠা করেছিল। বর্তমানে সংস্থাটির সদস্য দেশ ১০টি—রাশিয়া, চীন, ভারত, ইরান, পাকিস্তান, বেলারুশ, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তান। এছাড়া আরও অনেক দেশ এই সংস্থার সঙ্গে সংলাপ অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছে।
চীন এসসিওকে জি৭-এর মতো পশ্চিমাপন্থী সংগঠনগুলোর বিকল্প হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। বেইজিং গত কয়েক বছরে সংস্থাটির প্রভাব বাড়াতে উন্নয়ন ও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এসসিও কোনো ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক বা সামরিক জোট নয় এবং সদস্য দেশগুলোর নিজস্ব স্বার্থ ও মতপার্থক্য রয়েছে। ভারতের মতো দেশগুলোর জন্য এই সম্মেলনে বড় ধরনের বাস্তব ফলাফলের চেয়ে এর কৌশলগত গুরুত্ব ও দৃশ্যমানতা বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। গবেষক দিনকর পেরির মতে, এসসিও ভারতকে এমন একটি অঞ্চলে আলোচনার টেবিলে জায়গা করে দেয়, যেখানে ভারত তার স্বার্থ রক্ষা এবং পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক প্রবণতা পর্যবেক্ষণের সুযোগ পায়।





