কেরানীগঞ্জে অটোরিকশাচালক হত্যায় ৩ ছিনতাইকারীর মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ:

ঢাকার কেরানীগঞ্জে অটোরিকশাচালক জুয়েলকে ছিনতাইয়ের সময় হত্যার দায়ে তিন ছিনতাইকারীকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। সোমবার ঢাকার ৮ম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ মুনির হোসাঈন এই রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন আলী হোসেন, লুৎফর রহমান এবং হাসান।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে ৫ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ছিনতাইয়ের ধারায় তাদের আলাদাভাবে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন যে, আসামিদের কাছ থেকে আদায় করা ১৫ লাখ টাকা নিহত জুয়েলের অসহায় পরিবার ও এতিম সন্তানদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করতে হবে।

একই মামলায় অটোরিকশাটি ছিনতাইয়ের বিষয়টি জেনেও কম মূল্যে কেনার অপরাধে গ্যারেজ মালিক আহমদুর রহমানকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আহমদুর রহমান পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৫ অক্টোবর বিকেলে জুয়েল অটোরিকশা নিয়ে গ্যারেজ থেকে বের হন। পূর্ব-পরিকল্পনা অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭টার দিকে যাত্রীবেশে আলী ও লুৎফর জুয়েলের অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে ভাষানচর কাঠবাগানের দিকে যান। সেখানে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা হাসান ও এনামুল যোগ দিয়ে জুয়েলের হাত-পা ও মুখ চেপে ধরে ধইঞ্চা ক্ষেতে নিয়ে যান। এ সময় কিশোর এনামুল অটোরিকশায় বসে ছিলেন। সেখানে জুয়েলকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মোবাইল, নগদ টাকা ও অটোরিকশা ছিনতাই করা হয়।

জুয়েল বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করলে পরে ধইঞ্চা ক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জুয়েলের বোন সাবিনা কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ চারজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট এবং এনামুলের বিরুদ্ধে দোষীপত্র দাখিল করে। ২০২২ সালের ২৮ জুলাই চার্জ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু হয় এবং মামলার বিচার চলাকালে আদালত ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। রায় ঘোষণার সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয় এবং রায় শেষে তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়।

শেয়ার করুন