স্বাধীন দেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না: মির্জা ফখরুল

প্রকাশ:

রোববার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না। তিনি বলেন, এখন থেকে কোনো মাকে সন্তানের জন্য এবং কোনো স্ত্রীকে স্বামীর জন্য আর চোখের পানি ফেলতে হবে না।

প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গুমের প্রতিটি ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, অপরাধী যতো বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন, আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি তাদের পেতেই হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সব পথ চিরতরে বন্ধ করা হবে এবং গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব। তিনি বিশ্বাস করেন, সরকার এ বিষয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে অভিহিত করে প্রেসিডেন্ট বলেন, এটি কেবল একটি মানুষকে কেড়ে নেয় না, বরং প্রিয়জনদের শান্তি, স্বপ্ন এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্বস্তিও ধ্বংস করে দেয়। বিগত দেড় দশকে ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে ‘আয়নাঘর’ নামের গোপন বন্দিশালার দুঃসহ থাবা বাংলাদেশের বুকে চেপে বসেছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, যারা অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন বা গণতান্ত্রিক অধিকারের কথা বলেছেন, তাদের স্তব্ধ করে দিতেই গুম ও খুনের পথ বেছে নেওয়া হয়েছিল। অথচ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সবসময় এই গুরুতর অপরাধ অস্বীকার করেছে। তিনি এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে কিন্তু প্রতিহিংসা থাকবে না, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে কিন্তু ভয়ের সংস্কৃতি থাকবে না, এবং রাষ্ট্রের ক্ষমতার ওপর সংবিধান ও আইনের নিয়ন্ত্রণ থাকবে।

অনুষ্ঠানে তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে সারা বিশ্বের জোরপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি সেইসব মা-বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রী ও সন্তানদের কথা উল্লেখ করেন যারা বছরের পর বছর তাদের স্বজনদের অপেক্ষায় দিন পার করছেন।

শেয়ার করুন