দেশে আর কখনো গুম, খুন বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ঘটনা ঘটবে না—এমন একটি গণতান্ত্রিক ও সুশৃঙ্খল সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। শনিবার দুপুরে একটি সভার ভেন্যু পরিদর্শন শেষে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার মানবাধিকারভিত্তিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে বদ্ধপরিকর। তিনি দাবি করেন, ১৮৮ বছর ধরে বিএনপি গুম-খুন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছে। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুদূর বিলেত থেকে এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং তিনি নিজেও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনেই মৃত্যু হয়েছে এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, বর্তমান সরকার গুম বা খুনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।
প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, বাংলাদেশে গুমের দিন শেষ হয়েছে। অতীতে ঘটে যাওয়া ন্যাক্কারজনক ও ঘৃণিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। তিনি জানান, বিগত দিনে ঘটে যাওয়া প্রতিটি ঘটনার বিচার করা হবে, কারণ বর্তমান সরকার জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যা ও ছাত্র-জনতা হত্যার সাথে জড়িতদের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী হবে। তিনি স্পষ্ট করেন, প্রায় দুই হাজার নিরীহ ছাত্র-জনতা হত্যাকাণ্ডের দায়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা ও তদন্ত চলমান রয়েছে। তাদেরকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে নয়, বরং তাদের অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতেই কারারুদ্ধ রাখা হয়েছে এবং বাংলাদেশের মানুষের দাবি অনুযায়ী তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।





