আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো: আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঘটে যাওয়া প্রতিটি গুমের ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। আগামীকাল ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসকে সামনে রেখে তিনি এ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি হলেও কাউকে কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না। যাদের বিরুদ্ধে গুমের সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদেরই বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে যারা দোষী সাব্যস্ত হবেন, তাদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি বা মৃত্যুদণ্ড প্রার্থনা করা হবে। তিনি গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, যারা এখনো তাদের স্বজনদের সন্ধান পাননি, তাদের ন্যায়বিচার পাওয়া নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া ভবিষ্যতে যাতে আর কেউ গুমের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য।
ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি জানান, গুমের ঘটনায় বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ব্রিগেডিয়ার আযমী, ব্যারিস্টার আরমান ও বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে গুমের বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ২৫০টি গুমের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে এবং আশা করা হচ্ছে এ বছরের মধ্যেই এসব অভিযোগের তদন্ত শেষ করে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য যে, জোরপূর্বক গুম একটি বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে স্বীকৃত। জাতিসংঘ ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালন করে আসছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো। বিশেষ করে স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের দমনে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর এ ধরনের কৌশল ব্যবহারের ফলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বিচার পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।





