হিমালয়ের হিমবাহ ধসে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় নেপালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৪৭ জনে দাঁড়িয়েছে। গত বুধবার নেপাল-তিব্বত সীমান্তে এই ভয়াবহ দুর্যোগের সূত্রপাত হয়। শুক্রবার বিকেলে নেপাল পুলিশের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) ৫৩৮ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল।
দুর্যোগে আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৪৭৩ জন। এনডিআরআরএমএ-এর তথ্য অনুযায়ী, এখনো ৯৭৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে ৫১৭ জনই বিদেশি নাগরিক। নেপালের পর্যটন বোর্ডের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১২১ জন বিদেশিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করতে পুলিশ বাহিনীর ৪ হাজার ৪৭৩ জন সদস্য মাঠে কাজ করছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নির্দেশে দুর্যোগকবলিত নদীতীরবর্তী এলাকায় অতিরিক্ত ১ হাজার ২০০ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
চীনের উদ্ধারকারীরা হিমবাহ ধসে বিলীন হয়ে যাওয়া মূল এলাকায় পৌঁছেছেন। সিনহুয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২১ সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল তিব্বতের সীমান্ত বাণিজ্য কেন্দ্র গিরং-এ পৌঁছেছে। এলাকাটি ধ্বংসস্তূপের নিচে তলিয়ে যাওয়ার দুই দিন পর তারা সেখানে পৌঁছাতে সক্ষম হন। উদ্ধারকারীরা অত্যন্ত বিপজ্জনক ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।
এদিকে বুধবারের এই দুর্যোগে তিব্বতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫ জনে দাঁড়িয়েছে এবং সেখানে এখনো ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং উদ্ধার অভিযান নিয়ে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পার্শ্ববর্তী এলাকায় বরফাবৃত হ্রদ এবং ভূমিধসজনিত অনেক ঝুঁকি রয়ে গেছে। তবে কাদাধসে সৃষ্টি হওয়া হ্রদটির ঝুঁকি ধীরে ধীরে কমে আসায় উদ্ধার অভিযান শৃঙ্খলার সঙ্গে এগিয়ে চলছে। এর আগে হ্রদের পানি উপচে পড়ার আশঙ্কায় সাময়িকভাবে উদ্ধারকাজ স্থগিত রাখা হয়েছিল।





