৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরমাণু কর্মসূচিতে ব্যয় হচ্ছে উত্তর কোরিয়ার প্রবাসীদের আয়

প্রকাশ:

বিদেশে শ্রমিক পাঠিয়ে ২০২৫ সালে উত্তর কোরিয়া ৪৫ কোটি থেকে সর্বোচ্চ ৮০ কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত আয় করেছে। মাল্টিল্যাটারাল স্যাংশনস মনিটরিং টিম (এমএসএমটি)-এর তথ্য অনুযায়ী, এই বৈদেশিক মুদ্রার সিংহভাগই দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যবহার করা হচ্ছে। ২০২৪ সালে গঠিত এই বহুপক্ষীয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ যুক্ত রয়েছে। তাদের মূল লক্ষ্য জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দেওয়ার প্রচেষ্টাগুলো নথিবদ্ধ করা।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার নাগরিকদের বিদেশে আয় করা বন্ধ করে ২০১৯ সালের মধ্যে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে বর্তমানে অন্তত ১৭টি দেশে উত্তর কোরিয়ার প্রায় ৩৫ হাজার ৬০০ থেকে ১ লাখ ১ হাজার ২৮০ জন শ্রমিক অবস্থান করছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ রয়েছে চীনে। পর্যবেক্ষণ সংস্থাটির তথ্যমতে, চীনে ২০ হাজার থেকে ৭০ হাজার উত্তর কোরীয় শ্রমিক কারখানা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও মাছ ধরার ট্রলারে কাজ করছেন। যদিও চীন বরাবরই অবৈধভাবে উত্তর কোরীয় শ্রমিক নিয়োগের অভিযোগ নাকচ করে আসছে।

রাশিয়াতেও উত্তর কোরিয়ার শ্রমিকদের উপস্থিতি বেশ লক্ষণীয়। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দেশটিতে ১৫ থেকে ৩০ হাজার উত্তর কোরীয় কর্মী ছিলেন। গ্লোবাল রাইটস কমপ্লায়েন্সের কর্মকর্তা লারা স্ট্র্যাংওয়েজ জানিয়েছেন, রুশ শ্রম মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার শ্রমিকদের এমন একটি কঠোর ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে, যেখানে তাদের পাসপোর্ট ও নথি জব্দ করে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয় এবং তারা ঋণের জালে আটকে পড়েন। এছাড়া রাশিয়ার কারখানায় এসব শ্রমিক সামরিক ড্রোন তৈরির কাজেও যুক্ত রয়েছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের শিক্ষার্থী হিসেবে ভিসা দিয়ে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে।

শ্রমিকদের উপার্জিত অর্থের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত উত্তর কোরিয়া সরকার কেটে নিচ্ছে। প্রবাসীদের দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও কঠোর নজরদারির মধ্যে কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘকাল ধরে ‘জোরপূর্বক শ্রম’ হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে। এই শ্রম কর্মসূচির মাধ্যমে অর্জিত অর্থের বড় একটি অংশ আসে বিদেশে কর্মরত আইটি কর্মীদের কাছ থেকে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত ও সামরিক ঘনিষ্ঠতা বাড়ায় বিষয়টি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। রাশিয়াকে অস্ত্র ও সেনা সহায়তার বিনিময়ে উত্তর কোরিয়া ব্যাপক অর্থনৈতিক ও সামরিক সুবিধা পাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এমএসএমটি জানায়, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে উত্তর কোরিয়া যেভাবে এই বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করছে, তা বৈশ্বিক নজরদারি ব্যবস্থার বড় ধরনের ব্যর্থতা। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এসব শ্রমিক নিয়োগের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। এটি এখন কেবল শ্রমবাজারের ইস্যু নয়, বরং দেশটির গণবিধ্বংসী অস্ত্র কর্মসূচির অর্থায়নের প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০১৯ সালের মধ্যে তাদের প্রত্যাবাসনের সময়সীমাও নির্ধারিত ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এমএসএমটির হিসাবে, অনেক শ্রমিকের মজুরির ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কেটে নেওয়া হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিছু ক্ষেত্রে এর পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে শ্রমিকদের হাতে তাদের উপার্জনের খুব সামান্য অংশ থাকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং সীমিত চিকিৎসাসেবার মতো বিষয়ও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহের পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধে সেনাও পাঠিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই পরিস্থিতি উত্তর কোরিয়ার ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নতুন প্রতিবেদনটি সেই বহুমাত্রিক সম্পর্কেরই একটি চিত্র তুলে ধরেছে।

শেয়ার করুন