৩ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাকরি হারালেই ছাড়তে হবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন প্রস্তাব

প্রকাশ:

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য বড় ধরনের একটি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটিতে বর্তমানে অস্থায়ী কর্মভিত্তিক ভিসায় অবস্থানরত বিদেশিরা চাকরি হারালে বা ছেড়ে দিলে যে ৬০ দিনের ‘গ্রেস পিরিয়ড’ বা বাড়তি সময় পাওয়ার সুযোগ পান, তা বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই নিয়ম কার্যকর হলে ভিসাধারীরা চাকরি ছাড়ার পর দেশটিতে থাকার মতো আইনি কোনো সুযোগ আর পাবেন না।

মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) গত ১১ সেপ্টেম্বর ফেডারেল রেজিস্টারে ‘এলিমিনেটিং দ্য ডিসক্রিশনারি সিক্সটি-ডে গ্রেস পিরিয়ড’ শীর্ষক এই প্রস্তাবটি জনসমক্ষে প্রকাশ করেছে। বর্তমানে প্রচলিত এই সুবিধাটি ২০১৭ সাল থেকে কার্যকর রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কর্মভিত্তিক নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার কর্মীরা চাকরি হারানোর পর পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজে নেওয়া বা অভিবাসন সংক্রান্ত যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ পান। নতুন প্রস্তাবে এই সুযোগটিই পুরোপুরি বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে।

প্রস্তাবিত পরিবর্তনের আওতায় এইচ-১বি, ই-১, ই-২, ই-৩, এইচ-১বি১, এল-১, ও-১ এবং টিএন ভিসাধারীরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এই ভিসাগুলোর মধ্যে প্রযুক্তি, প্রকৌশল, গবেষণা ও বিশেষায়িত পেশায় এইচ-১বি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। এছাড়া বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বিশেষ দক্ষতা সম্পন্ন কর্মীদের জন্য এল-১, বিজ্ঞান, শিক্ষা, ব্যবসা ও ক্রীড়াক্ষেত্রে অসাধারণ যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য ও-১ এবং যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তির (ইউএসএমসিএ) আওতায় কানাডা ও মেক্সিকোর নাগরিকদের জন্য টিএন ভিসা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ভাষ্যমতে, এই গ্রেস পিরিয়ড বাতিল করা হলে প্রশাসনিক চাপ অনেকটাই লাঘব হবে। বর্তমানে চাকরিচ্যুত হওয়ার পর কর্মী ও নতুন নিয়োগকর্তার মধ্যে যে প্রশাসনিক জটিলতা ও সময়ক্ষেপণ হয়, তা দূর করাই কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য। তবে এই প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কর্তৃপক্ষ এই পরিবর্তনের বিষয়ে সাধারণ মানুষের মতামত গ্রহণ করছে, যা আগামী ১০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। জনমত যাচাইয়ের এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত বর্তমান ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বহাল থাকবে। বিদেশি কর্মীদের জন্য এটি একটি বড় নীতিগত পরিবর্তন হতে যাচ্ছে, যা প্রযুক্তিখাতসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত খাতে কর্মরত ব্যক্তিদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০১৭ সাল থেকে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। চাকরির আরও তথ্য: অন্য কোনো বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস না থাকলে চাকরি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বৈধ ভিত্তিও হারাতে পারেন। চাকরির আরও তথ্য: এ সময়ের মধ্যে তারা নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজে প্রয়োজনীয় আবেদন করতে, অন্য বৈধ স্ট্যাটাসে যাওয়ার উদ্যোগ নিতে অথবা দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে পারেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর প্রভাব শুধু মূল ভিসাধারীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে।

শেয়ার করুন