ছেলের অটিজম শনাক্তের পর জীবন বদলেছে মার্ক কুকুরেয়ার

প্রকাশ:

বিশ্বকাপে স্পেনের মাঠ কাঁপানো ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়ার ব্যক্তিগত জীবনে এসেছে বড় পরিবর্তন। তার তিন সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে মাতেওর অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (এএসডি) শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই বদলে গেছে এই ফুটবলারের জীবন। মাতেওর বয়স যখন তিন বছর, তখন তার অটিজম ধরা পড়ে, যা চিকিৎসকরা লেভেল-১ বা মৃদু পর্যায় হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। বোস্টন চিলড্রেনস হাসপাতালের তথ্যানুযায়ী, এএসডি হলো একটি স্নায়ুবিক বিকাশজনিত অবস্থা, যা শিশুর চিন্তাভাবনা, ভাষা, আচরণ এবং সামাজিক যোগাযোগের ওপর প্রভাব ফেলে।

কুকুরেয়া স্পেনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিভিইকে জানান, মাতেও নার্সারিতে যাওয়ার পর থেকেই তারা তার মধ্যে কিছু ভিন্নতা লক্ষ্য করেন। অন্য শিশুদের সাথে খেলার সময় তাকে সবসময় একা দেখা যেত। কথা না বলা বা আধো আধো শব্দও না করার বিষয়টি ছিল তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। কুকুরেয়ার স্ত্রী ক্লডিয়া রদ্রিগেজ জানান, সেই সময়টি ছিল তাদের জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত। স্কুলের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সহায়তা না পাওয়ার কারণে প্রতিদিন বাড়ি ফেরার সময় তাদের কাঁদতে হতো।

এই অভিজ্ঞতার পর জীবনকে অনেক বেশি ধৈর্য ও সহমর্মিতার সাথে দেখতে শিখেছেন ২৮ বছর বয়সী এই ফুটবলার। তিনি স্বীকার করেন, একজন শীর্ষ পর্যায়ের খেলোয়াড় হিসেবে তার যে পরিচিতি রয়েছে, তা তিনি অটিজম সচেতনতা বাড়াতে কাজে লাগাতে চান। একই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়া অন্য পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোই এখন তার অন্যতম লক্ষ্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সচেতনতা বৃদ্ধিতে স্কুল ও সহায়তা কেন্দ্রগুলো আরও বেশি এগিয়ে আসবে।

কুকুরেয়া জানান, মাতেওকে ঘিরেই এখন তাদের সব পরিকল্পনা সাজাতে হয়। ছুটিতে যাওয়া বা নতুন কোনো পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া মাতেওর জন্য চ্যালেঞ্জিং। তবে ছেলের অটিজম তাকে শিখিয়েছে জীবনের কোন বিষয়গুলো সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। মাতেওর কষ্টের কথা বলতে গিয়ে অনেক সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন কুকুরেয়া। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী বিশ্বকাপে মাতেওর উপস্থিতির বিষয়টি তার পছন্দের পরিবেশের ওপর নির্ভর করছে, কারণ অতিরিক্ত গরমে সে অস্বস্তি বোধ করে।

উল্লেখ্য, ইংলিশ ক্লাব চেলসি ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়া এই ফুটবলার মাঠের খেলায় পেঙ্গুইনের মতো লাফিয়ে উদযাপন করেন। তিনি জানিয়েছেন, এই উদযাপনের অনুপ্রেরণা তার পরিবার। ইন্টারনেটে তিনি দেখেছিলেন যে পেঙ্গুইন তার সঙ্গীকে সারাজীবন আগলে রাখে, ঠিক সেভাবেই ভালো-খারাপ সব সময়ে তার পরিবারের সদস্যরা তার পাশে রয়েছে। স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ী এই তারকা ফুটবলের চেয়েও পরিবারকে সবসময় বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।

তবে স্প্যানিশ একটি রেডিও স্টেশনকে তিনি জানান, ২০২৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের মতো এবারো বিশ্বকাপের ফাইনালে মাতেও উপস্থিত থাকার বিষয়ে।

শেয়ার করুন