সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো খবর দেখে মন্তব্য করার আগে যা জরুরি

প্রকাশ:

ফেসবুকে একটি পোস্ট এল: “বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করলেন, প্রতিদিন রাতে মোবাইল বালিশের নিচে রাখলে সকালে ঘুম থেকে উঠে মানুষ নাকি ১০ বছর কম বয়সী হয়ে যায়!” এই পোস্টের নিচে অনেকেই মন্তব্য করতে শুরু করলেন। কেউ বিজ্ঞানীদের প্রশংসা করলেন, কেউ প্রযুক্তির ভালো দিক নিয়ে লিখলেন, আবার কেউ সরকারি গোপনীয়তার তত্ত্ব আওড়ালেন। মজার বিষয় হলো, কেউই পুরো লেখাটি পড়েননি। পোস্টের শেষ লাইনে ছোট করে লেখা ছিল, “এই দাবিটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। শুধু আপনাকে পোস্টটি শেষ পর্যন্ত পড়ানোর জন্য লেখা হয়েছে।”

এখান থেকেই শুরু হয় ডিজিটাল যোগ্যতার আসল প্রয়োজনীয়তা। ডিজিটাল যোগ্যতা কেবল ফেসবুক চালানো, ইউটিউবে ভিডিও খোঁজা বা দ্রুত টাইপ করতে পারার নাম নয়। এর প্রকৃত অর্থ হলো, অনলাইনে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে নিজের চিন্তাশক্তিকে সক্রিয় রাখা। কোনো খবর দেখেই মন্তব্য করার আগে একটু থামা জরুরি। খবরটি কোথা থেকে এসেছে, পুরো ঘটনাটি কী, অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে একই তথ্য আছে কি না—এগুলো যাচাই করা প্রয়োজন। অনেক সময় শিরোনাম ইচ্ছা করে উত্তেজক করা হয়, আর আমরা শিরোনাম পড়েই নিজের রাগ, আনন্দ বা পছন্দ অনুযায়ী মন্তব্য করি।

উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো পোস্টে লেখা হয় “ডাক্তাররা বলছেন, চা খেলে মানুষ বোকা হয়ে যায়”, তবে আমরা হয়তো তড়িঘড়ি করে চায়ের কাপ নামিয়ে ফেলি। কিন্তু একটু নিচে গেলেই দেখা যায়, গবেষণাটি আসলে ইঁদুরের ওপর করা হয়েছিল এবং ‘ডাক্তাররা বলেছেন’ কথাটিও পোস্টদাতার বানানো। বৈজ্ঞানিক সত্য তো দূরের কথা, ইঁদুরের কাছ থেকেও কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তাই ডিজিটাল যোগ্যতা আমাদের শেখায়, আগে পুরো খবরটি পড়তে হবে, তারপর বিপ্লব করতে হবে।

ভুল তথ্য শুধু অন্যরা বিশ্বাস করে না, আমরা নিজেরাও করতে পারি। ডিজিটাল যোগ্যতা কাউকে বেশি বুদ্ধিমান প্রমাণ করার বিষয় নয়, বরং নিজের ভুল হওয়ার সম্ভাবনা স্বীকার করার অভ্যাস। কোনো পোস্ট দেখে মন্তব্য করার আগে প্রশ্ন করুন, “আমি যা দেখছি, সত্যিই কি পুরো ঘটনা?” এই ছোট্ট প্রশ্নটিই আমাদের অনেক বড় ভুল ও লজ্জা থেকে বাঁচাতে পারে। কারণ, পোস্টের মালিক হয়তো আমাদের মন্তব্য পড়ে মুচকি হাসছেন। আপনি যদি এই লেখাটিও না পড়ে শেষ লাইনে এসে মন্তব্য করেন, তবে বুঝতেই পারছেন উদাহরণটি সফল হয়েছে। তাই ভালো থাকুন, পড়ুন, তারপর লড়াই করুন।

শেয়ার করুন