বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর বহরে হামলা, অন্তত ৪৫ সেনা নিহত

প্রকাশ:

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের মাস্তুঙের কাছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বহরে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। বেলুচিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বেলুচিস্তান পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ৪৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন। যদিও পাকিস্তান সেনাবাহিনী হামলার ঘটনা নিশ্চিত করেছে, তবে তারা এখনো নিহতের সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।

বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। সংগঠনটির মুখপাত্র জিয়ান্দ বেলুচ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তাদের যোদ্ধারা নিরাপত্তা বাহিনীর বহর ও এসকর্ট লক্ষ্য করে হামলা চালায়। হামলার পর ঘটনাস্থলে আসা অতিরিক্ত সেনা সদস্যদের ওপরও তারা আক্রমণ চালিয়েছে। জিয়ান্দ বেলুচ দাবি করেন, বিএলএর ‘ফাতেহ স্কোয়াড’ এই সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করেছে। বিবৃতি প্রকাশের সময় পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলছিল এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত ৬ থেকে ৯ জুলাইয়ের মধ্যে বেলুচিস্তানে তিনটি বড় হামলার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ৭ জুলাই তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) একটি চেকপোস্ট দখল করে ১৮ জন পুলিশ সদস্যকে অপহরণের পর হত্যা করে। এছাড়া ৮ জুলাই লাসবেলা জেলার বেলা-উইন্ডার এলাকায় এন-২৫ মহাসড়কের কাছে সেনাবাহিনীর বহরে হামলায় একজন জুনিয়র কমিশন্ড অফিসারসহ ১১ জন সেনা নিহত হন, যার দায় বিএলএ স্বীকার করে। যদিও বিএলএ দাবি করেছিল তারা ওই ঘটনায় ১৭ জনকে হত্যা করেছে এবং সামরিক সরঞ্জাম জব্দ করেছে, তবে এই দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সাম্প্রতিক এই সিরিজ হামলার প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী প্রদেশটিতে ‘অপারেশন শাবান’ শুরু করেছে। পাক সেনাবাহিনী, ফ্রন্টিয়ার কর্পস ও বেলুচিস্তান পুলিশ যৌথভাবে এই অভিযান চালাচ্ছে, যেখানে গোয়েন্দা ও বিমান সহায়তাও যুক্ত রয়েছে। পাক বাহিনীর দাবি, এই অভিযানে এখন পর্যন্ত শতাধিক বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয়েছে। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হামলার জন্য দায়ীদের খুঁজে বের করা হবে এবং সেনাবাহিনীর জবাবের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

বেলুচিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাক্রম, সম্ভাব্য নেতৃত্বগত ব্যর্থতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি খতিয়ে দেখবে। কৌশলগত গওয়াদর বন্দর এবং প্রচুর খনিজ সম্পদের অধিকারী বেলুচিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন ও সম্পদের ন্যায্য হিস্যার দাবিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএলএ কর্তৃক বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা এবং ৮৫ শতাংশ এলাকা দখলের যে দাবি ছড়িয়েছে, তার সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

শেয়ার করুন