মরক্কো থেকে ব্রাজিল—১২ দেশের সুফি স্কলাররা অংশ নিলেন ঢাকার মাইজভাণ্ডারী মহাসমাবেশে

প্রকাশ:


‎মোহাম্মদ হায়দার আলী (এম.এ), বিশেষ প্রতিনিধি:


‎বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত রাহমাতুল্লীল আলামীন নবী হযরত মুহাম্মদ (দরুদ) ইংরেজী সনের ২৯ শে আগস্ট ৫৭০ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক হিজরী ১২ ই রবিউল আওয়াল সোমবার মক্কায় মা আমেনার ঘরে আগমন করেন। এই দিন দিনটি ছিল সকল সৃষ্টিজগতের জন্য খুবই আনন্দের দিন। কারন সমগ্র জাহানের “রহমত” এর আগমন হয়েছে এই দুনিয়ায়। এর চেয়ে আর কি অনুগ্রহ হতে পারে!
‎তাই এই দিনটিতে দেশ-বিদেশের সকল আশেকে রাসূল (দরুদ) গন  নবীজি (দঃ) এর আগমন উপলক্ষে ঈদ উদযাপন করে থাকে।

‎তারই ধারাবাহিকতায়, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গত ২৬/৮/২৬ইং, ১২ ই রবিউল আওয়াল (বুধবার) “আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়া” কতৃক আয়োজিত লাখো মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস। এতে নেতৃত্ব দেন
‎সংগঠনটির সভাপতি মাইজভান্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পার্লামেন্ট অব ওয়ার্ল্ড সূফীজ এর সম্মানিত প্রেসিডেন্ট, হযরত শাহছুফি শায়খ সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল মাইজভান্ডারী (মা.)।

‎দয়াল নবীর জুলুসে সাদা পোশাক ও টুপি পরা মানুষের উপস্থিতি, কালেমাখচিত পতাকা, প্ল্যাকার্ড, রঙিন ফেস্টুন ও জাতীয় পতাকায় মুখর হয়ে ওঠে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক। সকাল হতে না হতেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ সুফিবাদী জনতা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জড়ো হতে শুরু করেন। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরো উদ্যান পরিণত হয় মানুষের বিশাল মিলনমেলায়। নারী, পুরুষ ও বিভিন্ন বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।


‎মহানবীর জুলুসের শোভাযাত্রার অগ্রভাগে থাকা বিশাল ব্যানারে লেখা ছিল ‘ইয়া নবী সালামু আলাইকা’ ও ‘ইয়া রাসূল সালামু আলাইকা’।  শোভাযাত্রার পুরো পথে মুখরিত হতে থাকে ‘নারায়ে তাকবীর’ ও ‘নারায়ে রিসালাত’সহ নানা ধর্মীয় স্লোগান। নবীপ্রেমের আবেগ ও উৎসবমুখর পরিবেশে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক গুলোতে তৈরি হয় এক ভিন্ন আমেজ।

‎শোভাযাত্রা শেষে আন্তর্জাতিক শান্তি সমাবেশে শাহ সূফী ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী (মাঃ) বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দ.) সমগ্র মানবজাতির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত। তার শিক্ষা ও আদর্শ অনুসরণ করলেই সমাজে ন্যায়, মানবিকতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (দ.) মানুষকে সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও মানবিকতার শিক্ষা দিয়েছেন। বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ, সংঘাত ও অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে মহানবী (দ.)-এর আদর্শ ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে বাস্তবায়ন করা জরুরি।

‎এদিকে বিএসপি চেয়ারম্যান বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবীর তাৎপর্য শুধু আনুষ্ঠানিক উদযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মহানবী (দ.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

‎আন্তর্জাতিক শান্তি মহাসমাবেশে তুরস্ক, মরক্কো, কানাডা, শ্রীলঙ্কা, জর্ডান, সৌদি আরব, সোমালিয়া, অস্ট্রেলিয়া, মিশর, লেবানন, ব্রাজিল, পাকিস্তান ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অধ্যাপক ড. হাসান বাশিস (তুরস্ক) শায়খ ড. আবদুল্লাহ শরিফ আল উজানি (মরক্কো),শায়খ ড. সাইয়্যেদি আলী মাউন (মরক্কো), শায়খ ড. আব্দুল বারী (সোমালিয়া),শায়খ ড. বাজৌ (লেবানন), ড. আহমেদ তিজানি বিন ওমর (যুক্তরাষ্ট্র/কানাডা অঞ্চল),মুফতি আহমেদ তামিম (ইউক্রেন),ড. মাযেন চেরিফ (তিউনিসিয়া),সৈয়দ সালমান চিস্তী (আজমীর শরীফ, ভারত),ড. সোলাইমান তিজানি (নাইজেরিয়া),ড. মাসুম আহমেদ রেজা (যুক্তরাজ্য),ড. মো. মতিউল্লাহ নদর কারীজি (আফগানিস্তান) সহ ইরাক, সিরিয়া, আলজেরিয়া, জর্ডান, ব্রাজিল, মিশর, অস্ট্রেলিয়া এবং পাকিস্তানের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় ধর্মীয় প্রতিনিধি ও সুফি গবেষক এই মহাসমাবেশে সশরীরে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন।


‎সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন শাহজাদা সৈয়দ মেহেবুবে মইনুদ্দীন এবং মইনীয়া যুব ফোরামের সভাপতি শাহজাদা সৈয়দ মাশুক মইনুদ্দী, গ্লোবালে ইউনিভার্সিটি ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর এমিরেটস ডক্টর আনিসুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর আখতারুজ্জামান।আনজুমানে রহমানিয়া মইনীয়া  মাইজভাণ্ডারীয়ার  সাধারণ সম্পাদক খলিফা আলমগীর খান, মাওলানা মুফতী বাকি বিল্লাহ আজহারী, ‎চট্টগ্রাম দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন আল্লামা ছূফি ছৈয়দ মোহাম্মদ জাফর ছাদেক শাহ (মাঃ), ‎মাওলানা রুহুল আমিন ভূঁইয়া প্রমুখ। উক্ত শান্তি মহাসমাবেশে নারী অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। ধর্মীয় আবেগ ও শান্তির বার্তায় মুখর এ আয়োজন শেষে দেশ, জাতি, শান্তি ও মানবতার কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের বর্তমান ইমাম শাহ সুফি ড. শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী( মাঃ)

শেয়ার করুন