একটি যুগের অবসান ঘটিয়ে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মরদেহ পবিত্র নগরী নাজাফে এসে পৌঁছেছে। শিয়া মুসলিমদের অন্যতম এই পবিত্র ভূমিতে প্রিয় নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সমবেত হয়েছেন লাখো অনুসারী। বুধবার সকালে শুরু হওয়া এই শোক র্যালিতে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শীর্ষ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা অশ্রুসিক্ত চোখে বিদায় জানিয়েছেন। পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়েই এই শেষ বিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
ইরাকি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ভোর হওয়ার আগেই হাজার হাজার মানুষ নাজাফে জড়ো হন। তারা ইমাম আলীর (রা.) মাজারের চারপাশে এবং শহরের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে র্যালির অপেক্ষায় ছিলেন। সকাল ৬টায় মরদেহ মাজার প্রাঙ্গণে পৌঁছালে লাখো ইরাকি কফিনটি কাঁধে তুলে নেন। এরপর শোক মিছিলটি মাজার থেকে কুফা সেতু ও থাওরাত আল-আশরিন চৌরাস্তা হয়ে আল-সাদরিন স্কয়ারের দিকে অগ্রসর হয়। ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস জানিয়েছে, নাজাফের এই র্যালিতে ২৩ লাখেরও বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন এবং বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষের আগমন অব্যাহত থাকায় এই সংখ্যা আরও বাড়ছে।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী ফালেহ আল-জাইদি বিমানবন্দরে খামেনির মরদেহ গ্রহণ করেন। এই শোকাবহ যাত্রার অংশ হিসেবে তিনি বুধবার সারা দেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছেন। নাজাফে অবস্থান শেষে বিকেলে কফিনটি কারবালায় নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। আল মায়াদিন টেলিভিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কারবালা গভর্নরেট কর্তৃপক্ষ সেখানে ৭০ লাখ মানুষের সমাগম নথিভুক্ত করেছে।
এর আগে গত শুক্রবার তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে খামেনির দাফন প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর শনি ও রবিবার সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তা উন্মুক্ত রাখা হয়। সোমবার তেহরানে এবং মঙ্গলবার কোমের পবিত্র জামকারান মসজিদে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে শোক র্যালি ও জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শহীদ নেতার ইচ্ছানুযায়ী, আগামী বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরে অষ্টম শিয়া ইমাম রেজার (রা.) মাজারে তাকে দাফন করা হবে এবং সেখানে তার শেষ জানাজা সম্পন্ন হবে।





