ফুটবল যে কেবল নব্বই মিনিটের খেলা নয়, তা আবারও প্রমাণ হলো মিয়ামির ফুটবল স্টেডিয়ামে। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিসরের লড়াইটি ছিল অনেকটা মহাকাব্যের মতো, যেখানে ছিল নাটক, সৌন্দর্য, নিষ্ঠুরতা আর বীরত্বের মিশেল। ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে আর্জেন্টিনার জয়ে শেষ হলেও এর প্রতিটি মুহূর্ত ছিল টানটান উত্তেজনার। এবং বদলে গেল গল্পের নায়কও। আর্জেন্টিনা ৩, মিসর ২।
ম্যাচের ১৫ মিনিটে মারওয়ান আত্তিয়ার কর্নার থেকে ইয়াসের ইব্রাহিমের হেড মিসরকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ তখন কেবল নীরব সাক্ষী হয়ে ছিলেন। এরপর আর্জেন্টিনা পেনাল্টি পেলেও লিওনেল মেসির শট ঠেকিয়ে দেন মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা সোবেইর। প্রায় আশি মিনিট ধরে সোবেইর যেন মিসরের পিরামিডের মতো দুর্ভেদ্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন; ম্যাক অ্যালিস্টার, আলভারেজসহ আর্জেন্টিনার প্রতিটি আক্রমণ তিনি ব্যর্থ করে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধে মিসরের স্বপ্ন আরও বড় হয়। স্কোরলাইন জানাচ্ছে আর্জেন্টিনা ০, মিসর ২। ৬৭ মিনিটে সালাহর পাস থেকে হাসান হয়ে বল পান জিকো, যার ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-০। এর আগে অবশ্য মোস্তফা জিকোর আরেকটি গোল ভিএআরের সিদ্ধান্তে বাতিল হয়েছিল ফাউলের কারণে। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা যখন খাদের কিনারে, তখনই শুরু হয় তাদের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন।
৭৯ মিনিটে মেসির মাপা বল থেকে রোমেরোর হেডে ব্যবধান কমায় আর্জেন্টিনা। চার মিনিট পর মেসি নিজেই বক্সের ভেতর দারুণ এক ভলিতে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান। এই গোলটি ছিল মেসির টানা নবম বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার অনন্য রেকর্ড। নির্ধারিত সময়ের পর ইনজুরি টাইমে লাউতারোর পাস থেকে এনজো নিখুঁত হেডে বল জালে জড়ালে পুরো স্টেডিয়াম উল্লাসে ফেটে পড়ে।
মাত্র আট মিনিটের ব্যবধানে তিন গোল করে জয় নিশ্চিত করা আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। তবে হারলেও মোস্তফা সোবেইরের বীরত্ব আর মিসরের লড়াই ফুটবলপ্রেমীদের মনে দীর্ঘকাল গেঁথে থাকবে। ম্যাচ শেষে মেসির আবেগী কান্না আবারও মনে করিয়ে দিল, ফুটবল কেবল খেলা নয়, এটি এক জীবনদর্শন।




