১৭ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রেকর্ডের বরপুত্র ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর অমরত্বের গল্প

প্রকাশ:

ফুটবল অনেকের কাছে স্বপ্ন ও আবেগের নাম, আর সেই স্বপ্নের পথে হাঁটা এক অনন্য নাম ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো। ১৯৮৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পর্তুগালের মাদেইরা দ্বীপের ফুঞ্চালে জন্মগ্রহণকারী এই কিংবদন্তি চার ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন। তার বাবা জোসে দিনিস আভেইরো স্থানীয় একটি ক্লাবে কিটম্যান হিসেবে কাজ করতেন এবং মা মারিয়া দোলোরেস সংসার সামলানোর পাশাপাশি অন্যের বাড়িতে কাজ করে পরিবার চালাতেন। আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে বেড়ে ওঠা রোনাল্ডো ছোটবেলা থেকেই সংগ্রামের মাধ্যমে জেতার মানসিকতা রপ্ত করেছেন।

আন্দোরিনহা ক্লাবে ফুটবলের হাতেখড়ি নেওয়া রোনাল্ডো নাসিওনাল হয়ে স্পোর্টিং লিসবনের একাডেমিতে যোগ দেন। মাত্র ১২ বছর বয়সে পরিবার ছেড়ে রাজধানীতে পাড়ি জমানোর সিদ্ধান্তটিই তার ভাগ্য বদলে দেয়। ২০০৩ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে স্পোর্টিং লিসবনের একটি প্রীতি ম্যাচে তার পারফরম্যান্স দেখে মুগ্ধ হন কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন। এরপর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ, জুভেন্টাস হয়ে আবার ইউনাইটেডে ফেরা—প্রতিটি ধাপেই তিনি নিজেকে কিংবদন্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

ক্যারিয়ারের শুরুতে দ্রুতগতির উইঙ্গার থাকলেও সময়ের সাথে নিজেকে পরিণত করেছেন নিখুঁত স্ট্রাইকারে। পাঁচটি ব্যালন ডি’অর, পাঁচটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং ইংল্যান্ড, স্পেন ও ইতালির লিগ শিরোপাসহ অগণিত ট্রফি তার অর্জনের ঝুলিতে। পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পাশাপাশি ৯০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করা প্রথম ফুটবলার তিনি। পর্তুগালের হয়ে ২০১৬ ইউরো এবং উয়েফা নেশনস লিগ জয় তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অর্জন।

চলতি বিশ্বকাপেও রোনাল্ডো তার বয়সের তোয়াক্কা না করে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন। ডিআর কঙ্গো, উজবেকিস্তান এবং শেষ বত্রিশে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে গোল করে তিনি দলকে কোয়ার্টার ফাইনালের পথে এগিয়ে দিয়েছেন। পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ তাকে দলের মানসিক শক্তির উৎস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সতীর্থ ব্রুনো ফার্নান্দেস এবং প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক লুকা মদ্রিচও রোনাল্ডোর শৃঙ্খলা ও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

মাঠের বাইরেও ‘সিআর৭’ একটি সফল ব্র্যান্ড। পোশাক, জুতা, সুগন্ধি ও ফিটনেসসহ নানা ব্যবসার সাথে যুক্ত রোনাল্ডো বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রীড়াবিদ। দুই দশকের বেশি সময় ধরে বিশ্ব ফুটবলকে আলোকিত করে রাখা এই মানুষটি প্রতিটি প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে থাকবেন। রেকর্ড হয়তো একদিন অন্য কেউ ভাঙবে, কিন্তু রোনাল্ডোর অবিনশ্বর অধ্যায় ফুটবল ইতিহাসে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।

শেয়ার করুন